জেলা পুলিশ সুপারের সরকারি বাংলো ঢিলছোড়া দূরত্বে। সামান্য এগোলেই এসডিপিও-র অফিস। প্রশাসনিক দিক থেকে শহরের সবথেকে 'সুরক্ষিত' হিসেবে পরিচিত সেই কোর্টপাড়া ও আদালত চত্বরেই গত কয়েক দিনে পর পর চুরির ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্…
জেলা পুলিশ সুপারের সরকারি বাংলো ঢিলছোড়া দূরত্বে। সামান্য এগোলেই এসডিপিও-র অফিস। প্রশাসনিক দিক থেকে শহরের সবথেকে 'সুরক্ষিত' হিসেবে পরিচিত সেই কোর্টপাড়া ও আদালত চত্বরেই গত কয়েক দিনে পর পর চুরির ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের মুখে পুলিশের নজরদারি। একের পর এক চুরির ঘটনায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রের খবর, সম্প্রতি কোর্টপাড়ার পরিচিত নিরামিষ হোটেল ‘নীলাচল’-এ হানা দেয় দুষ্কৃতীর দল। হোটেলের তিনটি তালা ভেঙে সাবাড় করা হয় প্রচুর কাঁসা ও পিতলের বাসনপত্র। হোটেল মালিক নারায়ণ মাইতির দাবি, চোরেরা কেবল মূল্যবান ধাতুর দিকেই নজর দিয়েছিল। অ্যালুমিনিয়ামের বাসনে হাত না দিয়ে প্রায় ৯৫ হাজার টাকার কাঁসা ও পিতলের জিনিসপত্র নিয়ে চম্পট দেয় তারা।
শুধু এই হোটেলই নয়, গত কয়েক দিনে তমলুক আদালত চত্বরে একাধিক আইনজীবীর সেরেস্তায় থাকা ল্যাপটপ, গুরুত্বপূর্ণ ফাইল চুরি হয়, জেলা আদালত চত্তরে দোকান ও আরও কিছু হোটেলেও চুরির অভিযোগ উঠেছে। ভিআইপি এলাকায় পর পর এমন ঘটনাই সিঁদুরে মেঘ দেখছেন স্থানীয় আইনজীবী ও ব্যবসায়ীরা। এক আইনজীবীর ক্ষোভ, “যেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ আসেন, যেখানে জেলার শীর্ষ পুলিশ কর্তাদের বাংলো, সেখানেই যদি রাতে নিরাপত্তা না থাকে, তবে সাধারণ মানুষ যাবেন কোথায়?”
ঘটনাস্থলের অতীব স্পর্শকাতরতা এবং জেলা পুলিশের সর্বোচ্চ কর্তাদের বাসভবনের এত কাছাকাছি চোরের দলের এমন দৌরাত্ম্যে স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তিতে প্রশাসন। তবে জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানান, ঘটনাগুলি তাঁদের নজরে এসেছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং রাতে টহলদারি বাড়ানোর পাশাপাশি দ্রুত দুষ্কৃতীদের পাকড়াও করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
