অরুণ কুমার সাউ,তমলুক:* কার্গিল বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে কার্গিল যুদ্ধের শহীদ ভারতীয় বীর সেনাদের শ্রদ্ধা ও সম্মান জানাতে এক বিশেষ উদ্যোগ নিল পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তাম্রলিপ্ত পৌরসভার দুই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘তমলুক বাইকার্স’ এবং ‘হাত বা…
অরুণ কুমার সাউ,তমলুক:* কার্গিল বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে কার্গিল যুদ্ধের শহীদ ভারতীয় বীর সেনাদের শ্রদ্ধা ও সম্মান জানাতে এক বিশেষ উদ্যোগ নিল পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তাম্রলিপ্ত পৌরসভার দুই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘তমলুক বাইকার্স’ এবং ‘হাত বাড়ালেই বন্ধু’।
এই দুই সংস্থার যৌথ উদ্যোগের আয়োজনে রবিবার একটি স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবির অনুষ্ঠিত হলো।অনুষ্ঠানের শুরুতে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন এবং গাছের চারা রোপণ করে এই রক্তদান শিবিরের শুভ সূচনা করা হয়।
রক্তদানের এই মানবিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে সম্প্রতি প্রয়াত বিশিষ্ট লেখক ও শিক্ষক ড. মৌসম মজুমদারকেও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। এদিনের এই শিবিরে সাধারণ মানুষের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। মহিলা সহ মোট ৬১ জন রক্তদাতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে রক্তদান করেন। তাম্রলিপ্ত গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ব্লাড সেন্টারের প্রতিনিধিরা শিবির থেকে রক্ত সংগ্ৰহ করেন। সমস্ত রক্তদাতাদের হাতে পরিবেশ সচেতনতার বার্তা দিয়ে তুলে দেওয়া হয় একটি করে গাছের চারা।
এর পাশাপাশি স্মারক হিসেবে প্রদান করা হয় শান্তিনিকেতনের লোকশিল্প তথা বাংলার বাউল সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র একতারা- যা সম্প্রতি জিআই স্বীকৃতি লাভ করেছে।
রক্তের মতো মহৎ দানের পর এমন অভিনব ও ঐতিহ্যবাহী উপহার পেয়ে রক্তদাতা থেকে শুরু করে উপস্থিত অতিথি, সকলেই অত্যন্ত আনন্দিত ও আপ্লুত। শুধু তাই নয়, এদিন এই অনুষ্ঠানকে আনন্দমুখর করে তুলতে হাত বাড়ালেই বন্ধু'-র সদস্যরা গিটার বাজিয়ে গান গেয়ে মাতিয়ে রাখেন।
এদিনের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট চিকিৎসকমণ্ডলী ও সমাজসেবীরা। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য—ডা: স্বর্ণসিন্ধু ভৌমিক, ডা: হিমাদ্রী শেখর কর, ডা: সংগ্রাম দোলই, তাম্রলিপ্ত পৌরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শর্বরী চক্রবর্তী, ১২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জয়া দাস নায়েক, সমাজসেবী সন্দীপ চক্রবর্তী, আনন্দ নায়েক, দেবকমল দাস, শুভঙ্কর নারায়ন জানা, গৌরাঙ্গ গুছাইত, শুভদীপ চক্রবর্তী এবং শিক্ষিকা সুপর্ণা মজুমদার সহ আরও অনেক বিশিষ্ট জন।
সংগঠনের সামাজিক দায়বদ্ধতার কথা তুলে ধরে ‘তমলুক বাইকার্স’-এর পক্ষ থেকে অরিজিৎ পাল বলেন: "আমরা কেবল বাইক নিয়ে অ্যাডভেঞ্চার বা ঘুরে বেড়াতেই বেরিয়ে পড়ি না।
সমাজের ও সাধারণ মানুষের পাশে থাকাও আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। কোভিডের সেই কঠিন সময় থেকেই বিভিন্ন পরিষেবা নিয়ে আমরা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম, আর আজও সেই অঙ্গীকার বজায় রেখে কাজ করে চলেছি।" দুই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের এই মানবিক ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ তমলুক শহরজুড়ে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।







