Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking News:

latest

তমলুকে খাবারের দোকানে জেলাশাসকের সারপ্রাইজ ভিজিট, নষ্ট এক একাধিক ভেজাল ও বাসি খাদ্য

কাজল মাইতির রিপোর্ট, দেশ মানুষ :  খাবারের গুণমান বজায় রাখা এবং পচা-বাসি ও ভেজাল খাবার প্রতিরোধে কড়া অবস্থান নিল পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন। বুধবার সন্ধ্যায় জেলা সদর তমলুকের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হাসপাতাল মোড় এলাকায় একাধিক …

 


কাজল মাইতির রিপোর্ট, দেশ মানুষ :  খাবারের গুণমান বজায় রাখা এবং পচা-বাসি ও ভেজাল খাবার প্রতিরোধে কড়া অবস্থান নিল পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন। বুধবার সন্ধ্যায় জেলা সদর তমলুকের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হাসপাতাল মোড় এলাকায় একাধিক রেস্টুরেন্ট, বিরিয়ানি হাউস, হোটেল এবং রাস্তার ধারের খাবারের দোকানগুলিতে আচমকা অভিযান চালাল প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তরের বিশেষ টিম। পরিদর্শনের পাশাপাশি হাতেনাতে বাজেয়াপ্ত করে নষ্ট করে দেওয়া হলো প্রচুর নিম্নমানের খাদ্যসামগ্রী।

​অভিযান পরিচালনায় খোদ মাঠে নেমেছিলেন জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তমলুকের মহকুমা শাসক মানস পান্ডা, তমলুক মহকুমা পুলিশ আধিকারিক এবং খাদ্য দপ্তরের আধিকারিকেরা। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে উপস্থিত ছিল বিশাল পুলিশ বাহিনীও।

​বুধবার সন্ধ্যা নামতেই হাসপাতাল মোড়ের জনবহুল এলাকার একের পর এক খাবারের দোকানে আধিকারিকেরা গিয়ে হাজির হন। বিভিন্ন দোকান থেকে খাবারের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। খতিয়ে দেখা হয় খাবারে ক্ষতিকর নিষিদ্ধ রাসায়নিক রং মেশানো হচ্ছে কি না, পাশাপাশি নজর দেওয়া হয় রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতায়। তল্লাশি চলাকালীন একাধিক বিরিয়ানি হাউস ও স্ট্রিট ফুডের দোকানে অস্বাস্থ্যকর ও পচা-বাসি খাবার মেলায় তা সঙ্গে সঙ্গেই ড্রেনে ফেলে নষ্ট করে দেয় টিম।

​অভিযান শেষে জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার জানান, "রেস্টুরেন্ট থেকে বিরিয়ানির দোকান ও স্ট্রিট ফুড—সব জায়গায় চেকিং চালানো হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে। ল্যাবের রিপোর্টে গণ্ডগোল ধরা পড়লে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর যেসব খাবার দেখে স্পষ্ট বোঝা গিয়েছে খারাপ, সেগুলো তখনই নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।"

​অসাধু ব্যবসায়ীদের কড়া বার্তা দিয়ে জেলাশাসক আরও বলেন, "খাবার মানুষের জীবন বাঁচায়। তাতে ভেজাল বা ক্ষতিকর জিনিস মেশানো মানে মানুষের জীবন নিয়ে খেলা করা। অপরাধের পুনরাবৃত্তি হলে এফআইআর দায়েরের পাশাপাশি দোকান সিল করে দেওয়া হবে।" পাশাপাশি রাস্তার অংশ দখল করে বিপজ্জনকভাবে উনুন জ্বালিয়ে রান্না করা দোকানগুলিকেও দ্রুত সরানোর নির্দেশ দেয় প্রশাসন।

​প্রশাসনের এই আকস্মিক পদক্ষেপে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা। তাঁদের বক্তব্য, এই বিরিয়ানি বা স্ট্রিট ফুড ছোট ছোট ছেলেমেয়েরাই বেশি খায়। ফলে এতে ভেজাল থাকলে তা স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি করে। তবে তাঁদের দাবি, এই ধরনের সারপ্রাইজ ভিজিট বা অভিযান যেন কেবল একদিনের দেখাওনায় আটকে না থেকে নিয়মিত বিরতিতে চালানো হয়, তবেই অসাধু ব্যবসায়ীদের রাশ টানা সম্ভব হবে।

​জেলা প্রশাসন সূত্রের খবর, তমলুক ও সংলগ্ন এলাকার মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই ধরনের ঝটিকা অভিযান আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে।