কাজল মাইতির রিপোর্ট, দেশ মানুষ: স্কুল পড়ুয়াদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে পরিবহন দপ্তর আচমকা অভিযানে নামলো বেসরকারি স্কুলে। পুলকার এর নথি খতিয়ে দেখলো পরিবহন আধিকারিকরা।বৃহস্পতিবার বিকেলে শহরের দু’টি স্কুলে আচমকা অভিযানে নামলেন…
কাজল মাইতির রিপোর্ট, দেশ মানুষ: স্কুল পড়ুয়াদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে পরিবহন দপ্তর আচমকা অভিযানে নামলো বেসরকারি স্কুলে। পুলকার এর নথি খতিয়ে দেখলো পরিবহন আধিকারিকরা।
বৃহস্পতিবার বিকেলে শহরের দু’টি স্কুলে আচমকা অভিযানে নামলেন জেলা পরিবহণ দফতরের আধিকারিকেরা। মূলত স্কুলবাস ও পড়ুয়া বহনকারী অন্য গাড়িগুলির নথিপত্র পরীক্ষা করার পাশাপাশি চালকদের লাইসেন্স যাচাই করা হয় এই অভিযানে। নজর এড়ায়নি বাসের অন্দরের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থাগুলিও। গাড়িতে অতিরিক্ত আসন বসানো বা আপৎকালীন দরজার সামনে বাঁধা তৈরি করা— এমন একাধিক নিয়ম লঙ্ঘনের ছবি ধরা পড়তেই ঘটনাস্থলেই কড়া পদক্ষেপ করেছেন আধিকারিকেরা।
এ দিন তল্লাশি চলাকালীন দেখা যায়, নির্ধারিত সংখ্যার তুলনায় বেশ কিছু গাড়িতে অতিরিক্ত আসন বসানো রয়েছে। পরিবহণ দফতরের নির্দেশে সঙ্গে সঙ্গেই সেই সব অবৈধ আসন খুলে ফেলা হয়। এ ছাড়াও, জরুরি পরিস্থিতিতে যাতে ছাত্রছাত্রীরা দ্রুত বেরিয়ে আসতে পারে, সে জন্য ‘ইমার্জেন্সি ডোর’-এর সামনের আসনগুলি হয় ফোল্ডিং অবস্থায় রাখার, না হয় পুরোপুরি সরিয়ে ফেলার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা পরিবহণ আধিকারিক সঞ্জয় হালদার স্পষ্ট জানান, “বাচ্চাদের সুরক্ষাই প্রথম এবং শেষ কথা। এ ক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র আপস করা হবে না।”
তমলুকের জেলা পাবলিক স্কুলে পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা জানিয়ে সঞ্জয়বাবু বলেন, “স্কুলের অধিকাংশ বাসই নতুন। তবে বেশ কিছু ছোটখাটো ত্রুটি আমাদের নজরে এসেছে। কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় ইমার্জেন্সি ডোর পুরোপুরি লক করে রাখা হয়েছিল, যা চরম ঝুঁকিপূর্ণ। আবার বাসের ভেতরের যাতায়াতের পথে ছোট ছোট আসন বসিয়ে পথ আটকে রাখা হয়েছিল। সেগুলি আমাদের উপস্থিতিতেই সঙ্গে সঙ্গে খুলে ফেলা হয়।”
স্কুল কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে জেলা পরিবহণ দফতর জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই সমস্ত ত্রুটি সংশোধন করতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্দেশ না মানলে সোমবার থেকে রাস্তায় বা পুলকার নামলেই আইনানুগ কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্য সরকারের নির্দেশে আগামী দিনে জেলা জুড়ে সমস্ত স্কুলেই এই নজরদারি চালানো হবে। বিশেষ করে খুদে পড়ুয়াদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে প্রতিটি পুলকার ও স্কুলবাসের ফিটনেস পরীক্ষা চালিয়ে যাবে পরিবহণ দফতর।
