Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking News:

latest

নজরুলের জীবন - সাহিত্য ও বিপ্লবী চেতনা/অমৃত মাইতি

নজরুলের জীবন - সাহিত্য ও বিপ্লবী চেতনা/অমৃত মাইতিবিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম এই শিরোনামেই তিনি খ্যাত। এভাবেই তিনি প্রকাশিত এবং বিকশিত। "বিদ্রোহী"  তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবিতা।
“ মহা - বিদ্রোহী রণক্লান্তআমি সেই দিন হব শান…


নজরুলের জীবন - সাহিত্য ও বিপ্লবী চেতনা/অমৃত মাইতি

বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম এই শিরোনামেই তিনি খ্যাত। এভাবেই তিনি প্রকাশিত এবং বিকশিত। "বিদ্রোহী"  তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবিতা।


“ মহা - বিদ্রোহী রণক্লান্ত

আমি সেই দিন হব শান্ত।

যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল 

আকাশে-বাতাসে ধ্বনিবে না,

অত্যাচারীর খড়্গ কৃপাণ 

ভীম রণ, ভূমে রণিবে না-

বিদ্রোহী রণক্লান্ত

আমি সেই দিন হব শান্ত ”


একজন প্রাণের মানুষ, একজন গানের মানুষ, একজন বিপ্লবী, একজন শ্রেষ্ঠ বাঙালি , একজন  অসাম্প্রদায়িক মানবিক মানুষ তিনি। একজন নির্মল প্রেমের মানুষ। নজরুল ছিলেন বাঙালি চেতনার, বাঙালি ঘরের এক চিরন্তনী সত্তা। বাঙালি হৃদয় থেকে কোনদিনই তিনি বিচ্ছিন্ন হবেন না। যিনি বিপন্ন সময়ের দিশারী তিনিই তো শ্রেষ্ঠ বাঙালি, যাঁর কথা স্মরণ না করে কোন কিছু রচনায় হাত দেওয়া যায় না। সর্বযুগের সর্বকালের শ্রেষ্ঠ কবিতা "কান্ডারী হুশিয়ার" বাংলা কাব্য সাহিত্যের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে।পরাধীনতার যন্ত্রণা তিনি এতটাই অনুভব করেছিলেন, মনে হয়েছিল যন্ত্রনাতিষ্ট সমগ্র দেশটি যেন তিনি হৃদয়ে ধারণ করে রেখেছেন এবং সে কারণেই পরাধীনতার কষ্ট এবং যন্ত্রণাও অনুভব করেছিলাম। তাই তিনি মনে করেছিলেন এবং উপলব্ধি করেছিলেন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সমস্ত সম্প্রদায়কে একযোগে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করতে হবে। তাই তাঁর আহ্বান "কান্ডারী হুঁশিয়ার" । এক যুগান্তকারী আহ্বান। এই আহ্বান যুগ যুগ ধরে মানুষ মনে রেখেছে এবং প্রতিটি সংকটকালে স্মরণ করে।এটি এক নির্ভীক এবং স্পর্ধিত উচ্চারণ। কবিতাটি যেন অগ্নিস্ফুলিঙ্গ হয়ে দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে চতুর্দিকে। দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে কবিতাটির গর্জন।


তাঁর প্রতিটি রচনা সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে মানুষকে জাগিয়ে তোলার ক্ষেত্রে অমূল্য অবদান। ইংরেজের জেলে বসে জাগরনের কাজ তিনি করে গেছেন। লিখলেন, কারার ঐ লৌহ কপাট। আজও এই কবিতা প্রাসঙ্গিক।


"কারার ঐ লৌহ কপাট

ভেঙে ফেল কর রে লোপাট

রক্ত জমাট শিকল পুজোর পাষাণ বেদী

ওরে ও তরুণ ঈষাণ

বাজা তোর প্রলয় বিষাণ

ধ্বংস নিশান উক প্রাচীর প্রাচীর ভেদি ॥


ওরে ও পাগলা ভোলা

দে রে দে প্রলয় দোলা

গারদগুলা জোরসে ধরে হ্যাচকা টানে

মার হাঁক হায়দরী হাঁক

কাঁধে নে দুন্দুভি ঢাক

ডাক ওরে ডাক মৃত্যুকে ডাক

জীবন পানে ॥


গাজনের বাজনা বাজা

কে মালিক কে সে রাজা

কে দেয় সাজা মুক্ত স্বাধীন সত্যকে রে

হা হা হা পায় যে হাসি

ভগবান পরবে ফাঁসি সর্বনাশী

শিখায় এ হীন তথ্য কে রে ॥


নাচে ঐ কাল বোশেখী

কাটাবি কাল বোসে কী

দে রে দেখি ভীম কারার ঐ ভিত্তি নাড়ি

লাথি মার ভাঙ রে তালা

যত সব বন্দীশালায়

আগুন জ্বালা আাগুন জ্বালা

ফেল উপাড়ি ॥"


তিনি শ্রেষ্ঠ বাঙালি চেতনা। কবিগুরু তাঁকে নিয়ে যা বলেছেন, তা এখানে প্রতিধানযোগ্য। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের সম্পর্ক ছিল গভীর শ্রদ্ধা, স্নেহ ও ভালোবাসার এক অনন্য নিদর্শন। রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের মধ্যে প্রায় ৩৮ বছরের বয়সের ব্যবধান ছিল। ১৯২১ সালে কলকাতা পাবলিক লাইব্রেরিতে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের একটি সভায় ষাট বছরের রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে একুশ-বাইশ বছরের নজরুলের প্রথম দেখা হয়। 


নজরুল যখন তাঁর সম্পাদিত ধূমকেতু পত্রিকা প্রকাশ করেন, তখন তার প্রথম পাতায় রবীন্দ্রনাথের একটি আশীর্বাণী প্রকাশ করেছিলেন: "আয় চলে আয়, রে ধূমকেতু / আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু..."।

নজরুল যখন রাজদ্রোহের অভিযোগে কারাবরণ করেন এবং কারাবন্দিদের সাথে অনশন শুরু করেন, তখন রবীন্দ্রনাথ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। শিলং থেকে তিনি নজরুলকে টেলিগ্রাম পাঠান: "গিভ আপ হাঙ্গার স্ট্রাইক, আওয়ার লিটারেচার ক্লেইমস ইউ" (অনশন ত্যাগ করো, আমাদের সাহিত্য তোমাকে চায়)। এমনকি নজরুল জেলের ভেতরে থাকাকালীন রবীন্দ্রনাথ তাঁর 'বসন্ত' নাটকটি নজরুলকে উৎসর্গ করেন, যা সেকালে বুদ্ধিজীবী মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল।


রবীন্দ্রনাথ ১৯২৩ সালে নজরুলকে এবং নজরুল ১৯২৮ সালে রবীন্দ্রনাথকে নিজ গ্রন্থ উৎসর্গ করেছিলেন। নজরুলের সৃষ্টিশীলতা ও বিদ্রোহী সুরকে রবীন্দ্রনাথ সর্বদা সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং নজরুলও রবীন্দ্রনাথকে গুরুবৎ শ্রদ্ধা করতেন। 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের মধ্যকার সম্পর্কের গভীরতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ সম্পর্কে বাঙালিরা কম বেশি জানেন। 


কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান বাঙালি কবি, বিদ্রোহী কবি এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি। তাঁর জীবন ছিল সংগ্রামমুখর এবং সাহিত্যকর্ম ছিল বৈচিত্র্যময় ও বিপ্লবাত্মক। নজরুলের বর্ণময় জীবন যে কোন মানুষকে আকৃষ্ট করে।


১৮৯৯ সালের ২৪ মে বর্তমান ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর ডাকনাম ছিল 'দুখু মিয়া'। চরম দারিদ্র্যের মধ্যে তাঁর শৈশব কাটে। জীবিকার তাগিদে তিনি লেটো দলে গান গেয়েছেন, রুটির দোকানে কাজ করেছেন এবং পরবর্তীতে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। 


ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রেখে তিনি 'বিদ্রোহী কবি' হিসেবে পরিচিত হন। তিনি 'ধূমকেতু' ও 'লাঙ্গল' পত্রিকার মতো প্রগতিশীল পত্রিকা সম্পাদনা করেন। 


১৯৪২ সালে মাত্র ৪৩ বছর বয়সে তিনি এক অজানা রোগে আক্রান্ত হয়ে বাকশক্তি ও স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলেন। ১৯৭২ সালে তাঁকে ঢাকায় আনা হয় এবং ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট তাঁর জীবনাবসান ঘটে। 


নজরুলের সৃষ্টিশীলতা ছিল তুলনারহিত। সাহিত্যের প্রায় সব শাখাতেই তিনি মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন।

কাব্যগ্রন্থ: 'অগ্নিবীণা', 'দোলনচাপা', 'বিষের বাঁশি', 'সাম্যবাদী', 'সর্বহারা' ইত্যাদি। বিখ্যাত 'বিদ্রোহী' কবিতাটি অগ্নিবীণা কাব্যের অন্তর্ভুক্ত।


তিনি প্রায় ৪,০০০ গান রচনা ও সুর করেছেন, বিশেষত শ্যামাসংগীত, যা বাংলা সঙ্গীত জগতকে সমৃদ্ধ করেছে।


উপন্যাসের মধ্যে অন্যতম 'বাঁধন হারা', 'কুহেলিকা', 'মৃত্যুক্ষুধা'।


গল্পগ্রন্থ 'ব্যথার দান', 'রিক্তের বেদন', 'শিউলিমালা উল্লেখযোগ্য'।


নাটকও লিখেছেন, 'ঝিলিমিলি', 'আলেয়া', 'মধুমালা'। 


নজরুলের সাহিত্য সাম্য, মানবতাবাদ, এবং শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের চিরন্তন বার্তা বহন করে। 

 

বাংলা সাহিত্যে কাজী নজরুল ইসলাম ও সুকান্ত ভট্টাচার্য উভয়েই বিদ্রোহী চেতনা ও সাম্যবাদের প্রতীক। সুকান্ত ভট্টাচার্য ছিলেন নজরুলের বিপ্লবী কাব্যচেতনার প্রত্যক্ষ উত্তরসূরি। নজরুলের 'অগ্নিবীণা' বা বিদ্রোহী সুর সুকান্তের তরুণ হৃদয়ে ও কবিতায় নতুন মাত্রা পেয়েছিল। নজরুলের মতো সুকান্তও খুব কম বয়সে  তাঁর লেখা ও সৃষ্টির মাধ্যমে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। 


দুই কবির সাহিত্যেই শোষিত মানুষের পক্ষে কথা বলা এবং ধর্মান্ধতা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সুর এক ও অভিন্ন।


বাঙালি কবি শামসুর রাহমান তাঁর বিখ্যাত ‘স্বাধীনতা তুমি’ কবিতায় কাজী নজরুল ইসলামকে “ঝাঁকড়া চুলের বাবরি দোলানো মহান পুরুষ, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে কাঁপা” বলে স্মরণ করেছেন। শামসুর রাহমান নজরুলের কবিতায় থাকা অদম্য প্রাণশক্তি ও সৃষ্টির আনন্দকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছেন।

বিদ্রোহ ও সাম্য: নজরুলকে তিনি পরাধীনতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক অকুতোভয় এবং তেজস্বী পুরুষ হিসেবে শ্রদ্ধা করতেন।


বাঙালির প্রতিটি জাতীয় আন্দোলনে ও স্বাধীনতা সংগ্রামে নজরুলের বিদ্রোহী বাণী যে প্রেরণা জুগিয়েছে, তা তাঁর লেখায় ও মূল্যায়নে বারবার এসেছে। কাজী নজরুল ইসলাম সম্পর্কে কবি শামসুর রহমানের ভাবনা ও সাহিত্যিক অনুভব এখানে উল্লেখ করা হলো।


কাজী নজরুল ইসলামের "সাম্যবাদী"কবিতা ও সমনামের কাব্যগ্রন্থটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়। এটি মানুষের মধ্যে বৈষম্য ও বিভেদ দূর করে একটি অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠনের বার্তা দেয়। ধর্ম, জাত বা গোত্রের ভেদাভেদ ভুলে মানবপ্রেম ও সাম্যের জয়গান গাওয়া।

"গাহি সাম্যের গান— / যেখানে আসিয়া এক হয়ে গেছে সব বাধা-ব্যবধান"।

নজরুলকে দার্শনিক কবি বলা যায়। কবি মানুষের হৃদয়কে মন্দির, মসজিদ ও গির্জার মতো পবিত্র তীর্থস্থান হিসেবে গণ্য করেছেন।


নজরুলের সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধের উত্তাল সময়ে "কান্ডারী হুশিয়ার" মানুষকে সচেতন করার এবং জাগিয়ে তোলার অপূর্ব সৃষ্টি। এই কবিতাটি উল্লেখ না করলে অপূর্ণ থেকে যায় তাঁর সম্পর্কে আলোচনা।


"দুর্গম গিরি, কান্তার-মরু, দুস্তর পারাবার 

লঙ্ঘিতে হবে রাত্রি-নিশীথে, যাত্রীরা হুশিয়ার! 


দুলিতেছে তরি, ফুলিতেছে জল,  

ভুলিতেছে মাঝি পথ, 

ছিঁড়িয়াছে পাল, কে ধরিবে হাল, আছে কার হিম্মৎ? 

কে আছ জোয়ান হও আগুয়ান হাঁকিছে ভবিষ্যৎ। 

এ তুফান ভারী, দিতে হবে পাড়ি, 

নিতে হবে তরী পার। 


তিমির রাত্রি, মাতৃমন্ত্রী সান্ত্রীরা সাবধান! 

যুগ-যুগান্ত সঞ্চিত ব্যথা ঘোষিয়াছে অভিযান। 

ফেনাইয়া উঠে বঞ্চিত বুকে পুঞ্জিত অভিমান, 

ইহাদের পথে নিতে হবে সাথে, দিতে হবে অধিকার। 


অসহায় জাতি মরিছে ডুবিয়া, জানে না সন্তরন 

কান্ডারী! আজ দেখিব তোমার মাতৃমুক্তি পন। 

হিন্দু না ওরা মুসলিম? ওই জিজ্ঞাসে কোন জন? 

কান্ডারী! বল, ডুবিছে মানুষ, সন্তান মোর মার 


গিরি সংকট, ভীরু যাত্রীরা গুরু গরজায় বাজ, 

পশ্চাৎ-পথ-যাত্রীর মনে সন্দেহ জাগে আজ! 

কান্ডারী! তুমি ভুলিবে কি পথ? 

ত্যজিবে কি পথ-মাঝ? 

করে হানাহানি, তবু চলো টানি, নিয়াছ যে মহাভার! 


কান্ডারী! তব সম্মুখে ঐ পলাশীর প্রান্তর, 

বাঙালীর খুনে লাল হল যেথা ক্লাইভের খঞ্জর! 

ঐ গঙ্গায় ডুবিয়াছে হায়, ভারতের দিবাকর! 

উদিবে সে রবি আমাদেরি খুনে রাঙিয়া পূনর্বার। 


ফাঁসির মঞ্চে গেয়ে গেল যারা জীবনের জয়গান, 

আসি অলক্ষ্যে দাঁড়ায়েছে তারা, দিবে কোন্ বলিদান 

আজি পরীক্ষা, জাতির অথবা জাতের করিবে ত্রাণ? 

দুলিতেছে তরী, ফুলিতেছে জল, কান্ডারী হুশিয়ার"!

    নসাম্রাজ্যবাদী শাসনের আমলে বাংলায় নজরুলের আবির্ভাব যেন এক অগ্নি ফুলঙ্গ। তাঁর চারিত্রিকবৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় তিনি ছিলেন এক অগ্নি গোলক। ভাষাকে মজবুত করার প্রয়োজনে এবং অর্থবহ করার উদ্দেশ্যে প্রয়োজনে নিজের মাতৃভাষাকে  কিভাবে ব্যবহার করতে হয় ,কতটা ক্ষুরধার করতে হয়, কতটা প্রতিবাদী করতে হয় তা তিনি শিখিয়ে গেছেন। ভাষা যে এটমবোমের মত ভয়ংকর বিস্ফোরক হতে পারে তা কান্ডারী হুশিয়ার কবিতায় পাওয়া যায়।

তিনি বাঙালি জীবনে সম্মুখ সমরে  শিক্ষক সেনাপতি। মানুষের জীবনের হাহাকার তাঁর অন্তরাত্মা যেমন কেঁপে উঠেছিল ঠিক তেমনি পরাধীনতার শৃংখল যন্ত্রণাকে কিভাবে কোন দৃষ্টিতে কিভাবে প্রতিবাদে মুখর হলে মানুষকে আকৃষ্ট করা যায় তাই তিনি এই কবিতাটির মধ্য দিয়ে প্রকাশ করতে পেরেছিলেন। ভাষা আমাদের মনোভাব ব্যক্ত করার কথা বলার মাধ্যম হতে পারে নিশ্চয়ই। পাশাপাশি ভাষা প্রতিপক্ষকে চরমভাবে বিপর্যস্ত করে তুলতে পারে আর স্বাধীনতার জয়গান গাইতে পারে ভাষার মোহিনী মায়া  এবং শক্তি যে বিপ্লবী শক্তিকে জাগিয়ে তুলতে পারে নজরুল তা বুঝিয়ে দিতে পেরেছেন।

তিনি মানবিক ,প্রেমিক ,শিল্পী সাংস্কৃতিক ও বিপ্লবী চেতনায় ভরপুর  এক বিরল চরিত্রের মানুষ। তাঁর সাহস এবং অগ্রণী ভূমিকা মানুষকে চিরদিন অনুপ্রাণিত করবে।