Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking News:

latest

হাসপাতালে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ, রোগীর ছেলের আর্জিতে সোজা ওয়ার্ডে হাজির পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক

কাজল মাইতির রিপোর্ট, দেশ মানুষ : দীঘার বাসিন্দা এক মুমূর্ষু রোগীকে তাম্রলিপ্ত গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে কর্তৃপক্ষের দুর্ব্যবহারের মুখে পড়ার অভিযোগ তুলল পরিবার। শেষমেশ রাজপথে জেলাশাসককে পেয়ে মনের ক্ষোভ ও অ…


 কাজল মাইতির রিপোর্ট, দেশ মানুষ : দীঘার বাসিন্দা এক মুমূর্ষু রোগীকে তাম্রলিপ্ত গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে কর্তৃপক্ষের দুর্ব্যবহারের মুখে পড়ার অভিযোগ তুলল পরিবার। শেষমেশ রাজপথে জেলাশাসককে পেয়ে মনের ক্ষোভ ও অসহায়তার কথা জানান রোগীর ছেলে। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই প্রথা ভেঙে সোজা হাসপাতালের ওয়ার্ডে পৌঁছে গেলেন পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার। খতিয়ে দেখলেন চিকিৎসার হালহকিকত, কড়া বার্তা দিলেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেও।

স্থানীয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, দীঘার শোনপুরের বাসিন্দা জ্যোৎস্না পানি গত কয়েক দিন ধরে তীব্র শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। রক্তে শর্করার মাত্রা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি তাঁর কিডনিতেও পাথর ধরা পড়ে। শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে প্রথমে তাঁকে ভর্তি করা হয় দীঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতালে। কিন্তু সেখানে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় দুই দিন আগে তাঁকে স্থানান্তরিত করা হয় তমলুকের তাম্রলিপ্ত গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে।

অভিযোগ, মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি থাকার এই দুই দিন ধরে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা পরিষেবা তো মেলেনি-ই, উল্টে রোগীর ছেলে প্রদীপ পানির সঙ্গে লাগাতার দুর্ব্যবহার করেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের একাংশ। দিশাহারা হয়ে যখন তিনি দিশা খুঁজছেন, তখনই ঘটে এক অভাবনীয় ঘটনা।

শনিবার সকালে তমলুকের হাসপাতাল মোড় এলাকায় 'স্বচ্ছ ভারত অভিযান'-এর একটি কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার। জেলাশাসককে দেখতে পেয়েই সেখানে পৌঁছে যান প্রদীপ। প্রশাসনিক প্রধানের কাছে গিয়ে তিনি অভিযোগ এবং হাসপাতালে ঘটা পুরো বিষয়টি বিশদে জানান।

বিষয়টির গুরুত্ব বুঝে বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট করেননি জেলাশাসক। কর্মসূচি চলাকালীনই তিনি প্রশাসনিক আধিকারিকদের একটি দল নিয়ে সোজা হেঁটে ঢুকে পড়েন তাম্রলিপ্ত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। আচমকা জেলাশাসককে ওয়ার্ডে ঢুকতে দেখে ততক্ষণে শোরগোল পড়ে যায় হাসপাতাল চত্বরে।

হাসপাতালে পৌঁছেই জেলাশাসক সরাসরি কথা বলেন কর্তব্যরত নার্সদের সঙ্গে। জ্যোৎস্নাদেবীর চিকিৎসার ফাইলপত্র খতিয়ে দেখেন। এর কিছুক্ষণ পর পৌঁছান বিভাগীয় চিকিৎসকও। তাঁদের উপস্থিতিতে জেলাশাসক স্পষ্ট জানিয়ে দেন, রোগীর পরিবার ইতিমধ্যেই চরম দুশ্চিন্তায় থাকেন, তাঁদের সঙ্গে কোনও ভাবেই দুর্ব্যবহার বা অসংবেদনশীল আচরণ বরদাস্ত করা হবে না। পাশাপাশি, ওই বৃদ্ধার দ্রুত ও সঠিক সুচিকিৎসা সুনিশ্চিত করার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কড়া নির্দেশ দেন তিনি।

জেলাশাসকের এই আচমকা ‘সারপ্রাইজ ভিজিট’ এবং কড়া মনোভাবের জেরে কার্যত হুলস্থুল পড়ে যায় মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষের অন্দরে। প্রশাসনিক প্রধানের আশ্বাসে কিছুটা হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে অসহায় পরিবারটি।