Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking News:

latest

আন্দামানের ভাইপার দ্বীপ/ অমৃত মাইতি

আন্দামানের ভাইপার দ্বীপ/ অমৃত মাইতি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াইয়ের ইতিহাস যাঁরা জানতে চান, বারবার পড়তে ইচ্ছা প্রকাশ করেন তাঁদের জন্য এবং সেই সমস্ত বীর যোদ্ধাদের, শহীদদের স্মরণ করার জন্য, স্বাধীনতা সংগ্রামীদের যা…

 


আন্দামানের ভাইপার দ্বীপ/ অমৃত মাইতি 

ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াইয়ের ইতিহাস যাঁরা জানতে চান, বারবার পড়তে ইচ্ছা প্রকাশ করেন তাঁদের জন্য এবং সেই সমস্ত বীর যোদ্ধাদের, শহীদদের স্মরণ করার জন্য, স্বাধীনতা সংগ্রামীদের যাঁরা ভালবাসেন তাঁদের জন্য এই ধরনের ইতিহাস লিখতে ইচ্ছা করে। তাছাড়া নিজেকে সমৃদ্ধ করার জন্য লিখতে পড়তে ইচ্ছে করে। আমার জানার বা শেখার যে সমস্ত বিষয়গুলি আছে তার মধ্যে স্বাধীনতার সংগ্রাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এই বিষয় অন্তরকে খুব টানে।



 মোহিনী চৌধুরীর লেখাটি এখানে অবশ্যই উল্লেখ করা যেতে পারে--

  " মুক্তির মন্দির সোপানতলে 

           কত প্রাণ হলো বলিদান 

            লেখা আছে অশ্রু জলে"।

মোহিনী চৌধুরীর এই গানটি শোনার পর মনে হয় কেন ওই সময়ে জন্মাইনি। জীবনের দামটা দিতে পারতাম। 


এখন মূল বিষয়ে আসি। আন্দামানের ভাইপার দ্বীপ পোর্ট ব্লেয়ারের কাছে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক ও সুন্দর পর্যটন কেন্দ্র। এটি পোর্ট ব্লেয়ারের নেভি বে (Navy Bay)-র মধ্যে অবস্থিত। পোর্ট ব্লেয়ার থেকে এখানে পৌঁছাতে নৌকায় প্রায় ৪৫ মিনিট সময় লাগে। দ্বীপটির আয়তন প্রায় ০.৩৩ বর্গকিলোমিটার।


১৮ শতকে ব্রিটিশ রাজের এইচএমএস ভাইপার (HMS Viper) নামক জাহাজটি এই দ্বীপে ডুবে গিয়েছিল বা এখানে এসেছিল, সেই থেকেই এর নাম হয় ভাইপার দ্বীপ। 


সেলুলার জেল তৈরির আগে ব্রিটিশরা স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ওপর নির্যাতন চালানোর জন্য এই দ্বীপটিকে ব্যবহার করত। এখানে একটি কুখ্যাত জেল ছিল, যেখানে বন্দীদের ওপর অকথ্য অত্যাচার চালানো হতো। এই কারণে এর ইতিহাস বেশ অন্ধকার ও বেদনাদায়ক। অনেক বিপ্লবী এখানে শহীদ হয়েছেন। 


বর্তমানে পুরোনো জেলের ভগ্নাবশেষ এবং ফাঁসি কাঠ এখানে দেখতে পাওয়া যায়। সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য, সবুজ গাছপালা এবং সমুদ্রের ঘেরা পরিবেশের কারণে এটি এখন একটি চমৎকার পিকনিক স্পট ও পর্যটন কেন্দ্র। 

ভাইপার দ্বীপ আবার বিষধর সাপের আশ্রয়।

ঐতিহাসিকভাবে আন্দামানের Viper Island-এ প্রচুর পরিমাণে ভাইপার সাপ থাকার কারণে এর নামকরণ করা হয়েছিল বলে অনেকে মনে করেন।

ভাইপার দ্বীপের নামকরণ ও ইতিহাস বলা প্রয়োজন।

১৭৮৯ সালে লেফট্যানেন্ট আর্চিবল্ড ব্লেয়ার যে জাহাজটিতে (H.M.S. Viper) করে আন্দামান এসেছিলেন, তার ভগ্নাবশেষ এই দ্বীপের কাছে পাওয়া যায়। পাশাপাশি, জনশ্রুতি রয়েছে যে সে সময় এই দ্বীপে প্রচুর ভাইপার সাপ ছিল। 


ঐতিহাসিক সেলুলার জেল তৈরির আগে ব্রিটিশরা রাজনৈতিক বন্দিদের ওপর নির্যাতন চালানোর জন্য এই Viper Island-এ একটি জেল বা ফাঁসিঘর তৈরি করেছিল। বর্তমানে এটি একটি ঐতিহাসিক পর্যটন স্থান।

__________________________