Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking News:

latest

পূজা নিয়ে বলছি /অমৃত মাইতি

পূজা নিয়ে বলছি  /অমৃত মাইতি 
পূজার কোন যুক্তিবাদী বা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা সাধারণভাবে আমার জোরালোভাবে জানা নেই।পূজা মূলত একটি ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যগত আচার, যার সরাসরি কোনো আধুনিক বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বা পরীক্ষামূলক প্রমাণ নেই। …


পূজা নিয়ে বলছি  /অমৃত মাইতি 


পূজার কোন যুক্তিবাদী বা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা সাধারণভাবে আমার জোরালোভাবে জানা নেই।

পূজা মূলত একটি ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যগত আচার, যার সরাসরি কোনো আধুনিক বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বা পরীক্ষামূলক প্রমাণ নেই। পূজার বস্তু জগতে প্রভাব সেভাবে না থাকলেও ভাব জগত প্রভাব আছে। এটি মূলত বিশ্বাস, ভক্তি ও পঞ্জিকাভিত্তিক প্রথার ওপর প্রতিষ্ঠিত। 

তবে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে এর কিছু সামাজিক ও মানসিক দিক আলোচনা করা যেতে পারে।


ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক বিশ্বাস: পূজা হলো দেব-দেবীর প্রতি শ্রদ্ধা, সম্মান ও উপাসনা নিবেদনের একটি মাধ্যম। এটি বৈজ্ঞানিক নিয়মে মাপা যায় না, এটি মানুষের অভ্যন্তরীণ আস্থা ও বিশ্বাসের বিষয়। 


সামাজিক ও মানসিক প্রভাব: পূজা বা উপাসনার মাধ্যমে মানুষের মনে একাগ্রতা, সামাজিক মেলবন্ধন, আনন্দ ও মানসিক প্রশান্তি তৈরি হতে পারে, যা অনেক সময় মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। 


পূজা অজ্ঞতার ফসল বলে আমি বিবেচনা করি। তা সত্ত্বেও যুগ যুগ ধরে পূজার প্রচলন মানুষের মনে প্রভাব ফেলেছে। এখন পূজা, একটি উৎসবে পরিণত হয়েছে। উৎসব বলেই অংশগ্রহণ ও কম নয়।


প্রকৃতি ও ঋতুভিত্তিক সংযোগ: অনেক পূজা ঋতু পরিবর্তন বা কৃষিভিত্তিক উৎসবের সাথে জড়িত থাকে (যেমন দুর্গাপূজা শরৎকালে হয়), যা মূলত প্রাচীন সমাজের জীবনযাত্রা ও আনন্দ উদযাপনের সাথে সম্পর্কিত। দুর্গাপূজার শরৎকালে হয় আবার বসন্তকালেও হয়। শরৎকালে দুর্গাপূজা হয় বলেই এই পূজাকে শারদ উৎসব বলেই প্রচলন হয়ে গেছে।


পূজা হলো হিন্দু ধর্মের একটি পবিত্র আচার ও উপাসনা পদ্ধতি। সংস্কৃত ‘পূজা’ শব্দের অর্থ হলো শ্রদ্ধা, সম্মান, ভক্তি ও আরাধনা। ঈশ্বরের প্রতি বা কোনো দেব-দেবীর প্রতি প্রেম ও শ্রদ্ধাপূর্ণ নিবেদন প্রকাশ করতে পূজা করা হয়। অলৌকিক চিন্তা-ভাবনা প্রসূত পূজা।



পূজার সংজ্ঞা: দেব-দেবী, বিশিষ্ট ব্যক্তি বা অতিথিদের উদ্দেশ্যে ভক্তিভরে ফুল, জল, প্রদীপ, ধূপ এবং নৈবেদ্য (খাদ্যদ্রব্য) অর্পণ করার নামই পূজা।

       

হিন্দুধর্মে সাকার (প্রতিমা বা রূপের মাধ্যমে) এবং নিরাকার উভয়ভাবেই উপাসনা করা হয়। মূর্তিকে সরাসরি ভগবান মনে করা হয় না; বরং এটি পরম সত্তার একটি রূপ বা প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হয়।

বাড়িতে ঠাকুরঘরে নিত্যপূজা থেকে শুরু করে মন্দিরে পুরোহিত কর্তৃক পূজা করা হয়।


শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ: অবৈজ্ঞানিক চিন্তা প্রসূত সৃষ্টিকর্তা বা প্রকৃতির বিভিন্ন শক্তির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে পূজা করা হয়। উপাসকের মনকে শান্ত রাখা, একাগ্রতা বৃদ্ধি এবং আত্মার পবিত্রতা অর্জনের উদ্দেশ্যে পূজা করা হয়।


প্রকৃতি ও ভারসাম্য রক্ষা। প্রকৃতি বলতে আমরা সাধারণত গাছপালা সবুজের সমারোহ কে বুঝি যা চোখের সামনে দেখি। মানুষের সবচাইতে পরম বন্ধু বৃক্ষ। দেবদেবী না থাকলেও মানুষের কোন অসুবিধা নেই। কিন্তু গাছপালা না থাকলে মানুষ মুহূর্তের সময় ও বাঁচবে না। বৃক্ষ আমাদের অক্সিজেন দেয়। ফুল ফল ফসল প্রকৃতি জাতীয় খাদ্য ছায়া দেয়। পৃথিবীর ভূমিক্ষয় রক্ষা করে গাছ। 


আমার একটি পুরনো কবিতা এক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক।"এসেছিলাম ফিরে যেতে হবে জানা ছিল না/সারা জীবনে একটিও গাছ লাগাতে পারিনি/আজ জ্বালানি খুঁজতে বেরিয়েছি।" নিজেকে পোড়ানোর জন্য একটি গাছের দরকার হয়। তাই প্রকৃত বুদ্ধিমান লোকেরা গাছকেই ঈশ্বর মনে করে। দেবদেবী মূর্তি পূজার চাইতে আমরা বিজ্ঞানসম্মত ভাবে এবং প্রকৃত জ্ঞানী মানুষ হিসেবে বৃক্ষকেই পূজা করতে পারি। বৃক্ষকে পূজা করার মধ্য দিয়ে মানুষের জ্ঞান চক্ষু বিকশিত হতে পারে । অনেক পূজায় গাছপালা, ফুল এবং প্রাণীদের (যেমন দেব-দেবীর বাহন) সম্মান জানানো হয়, যা আমাদের প্রকৃতির গুরুত্ব মনে করিয়ে দেয়।


আধ্যাত্মিক বিকাশ: সাধারণ মানুষকে আত্মিক বা আধ্যাত্মিক উন্নতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার একটি মাধ্যম হলো পূজা। কোথায় আছে হিন্দুদের নাকি ৩৩ কোটি দেবদেবী। সে যাই হোক দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি টাকার লেনদেন ঘটে থাকে। প্রতিমা প্যান্ডেল মেলা পার্বণ মানুষের মনের আনন্দ দেয়। সেজন্যই উৎসব হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। দুর্গাপূজার সময় নানান ধরনের সংস্কৃতি অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। শিশু থেকে সকলেই অংশগ্রহণ করে। পূজার সময় মানুষের সঙ্গে বন্ধুদের সঙ্গে দূর-দূরান্তে থাকা আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে একত্রে মিলিত হওয়ার সুযোগ থাকে। 


অলৌকিক দিক বাদ দিল নিঃসন্দেহে বলা যায় বহু মূল্যবান মুহূর্ত এবং লৌকিক দিক পূজাকে কেন্দ্র করে আমরা পেয়ে থাকি। তাই লৌকিক দিকটিকে আমরা অস্বীকার করতে পারি না। আমি নাস্তিক মানুষ কিন্তু পূজাকে কেন্দ্র করে যে মাঠে ফুটবল খেলার প্রতিযোগিতা হয় তার যে লৌকিক দিক রয়েছে আমি কিন্তু তাকে স্বীকার করি এবং নিজেও অংশগ্রহণ করি। যত দিন যাচ্ছে আমার অনুভব এবং ধারনা অলৌকিকতা বাদ দিলেও লৌকিকতা এবং উৎসবের প্রয়োজনীয়তা মানতেই হবে। পূজাকে কেন্দ্র করে আমার ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ বন্ধুরা গ্রহণ করতে পারেন নাও পারেন।


তবে কিছু কিছু পূজা মানুষের কাছে অপ্রয়োজনীয় হয়ে যাচ্ছে যেমন ব্যাঙ পূজা, মই পূজা ইত্যাদি। এখন আবার দুর্গাপূজার আগে খুঁটিপূজা প্রবর্তন হয়েছে। তবে পূজা পদ্ধতি মানুষ কত দিন কিভাবে গ্রহণ করবেন বর্জন করবেন সেটা মানুষের চেতনার উপর নির্ভর করে।

______________________