অরুণ কুমার সাউ, তমলুক: মহাত্মা গান্ধীর ১৫৮তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য বাইক র্যলির আয়োজন করল আমগেছিয়া বাপুজী সংঘ। অহিংস দিবস ও বাপুজীর জন্মতিথি পালনের পাশাপাশি এক অভিনব কর্মসূচির মাধ্যমে মনীষী স্মরণের বার্তা দিলেন সংঘের সদ…
অরুণ কুমার সাউ, তমলুক: মহাত্মা গান্ধীর ১৫৮তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য বাইক র্যলির আয়োজন করল আমগেছিয়া বাপুজী সংঘ। অহিংস দিবস ও বাপুজীর জন্মতিথি পালনের পাশাপাশি এক অভিনব কর্মসূচির মাধ্যমে মনীষী স্মরণের বার্তা দিলেন সংঘের সদস্যরা।
দিনের শুরুতেই সংঘ প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও শহীদ স্মরণের মাধ্যমে মূল অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন সংঘের সভাপতি হরিপদ বেরা। এরপর সংঘের নিজস্ব 'মনীষী মঞ্চে' মহাত্মা গান্ধী, বিশ্বকভি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, স্বামী বিবেকানন্দ এবং ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আবক্ষ মূর্তিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য ও মাল্যদান করা হয়।
মাল্যদান পর্বে উপস্থিত ছিলেন—সম্পাদক গৌতম বেরা ,সহ-সম্পাদক তপন ঘোড়াই , গ্রন্থাগারিক শ্যামাশঙ্কর বেরা, বিষ্ণুপদ নন্দ সহ সংঘের অন্যান্য বিশিষ্ট সদস্যরা।অনুষ্ঠানে গান্ধীজির বিভিন্ন ঐতিহাসিক আন্দোলন ও তাঁর আদর্শ নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন গৌতম নন্দ। তিনি বলেন, "গান্ধীজির ভারত ছাড়ো আন্দোলনে যেমন বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে শহীদ হয়েছিলেন 'গান্ধীবুড়ী' মাতঙ্গিনী হাজরা, তেমনই হাওড়া জেলা কংগ্রেসের সম্পাদক থাকাকালীন গান্ধীজির বিভিন্ন আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী ছিলেন অমর কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।পরবর্তীকালে রাজনৈতিক মতের অমিল হলেও, মনের দিক থেকে তাঁদের মধ্যে গভীর পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সুসম্পর্ক ছিল— যা বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশে বিরল। তাই এই অহিংস দিবসে এক মনীষীর জন্মদিনে আরেক মনীষীর স্মৃতিবিজড়িত স্থানে শ্রদ্ধা জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।"
আলোচনা পর্বের পর সংঘের কয়েকজন সদস্য বাইক র্যালি করে রওনা দেন সামতাবেড়ে অবস্থিত অমর কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক বাসভবন 'শরৎ কুঠী'-র উদ্দেশ্যে। যাত্রাপথে পাঁচবেড়িয়ায় মাতঙ্গিনী হাজরা এবং কাঁকটিয়ায় ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের পূর্ণাবয়ব মূর্তি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে মাল্যদান ও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পরিশেষে শরৎ কুঠীতে পৌঁছে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আবক্ষ মূর্তিতে মাল্যদান করেন সংঘের সম্পাদক গৌতম বেরা।


