Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking News:

latest

মহাষষ্ঠীর বোধনে মানবিকতার ছোঁয়া: চার পর্বে ১৬০ জনের মুখে হাসি ফুটিয়ে বস্ত্র বিতরণ সমাপ্ত করল ‘ইমারজেন্সী ব্লাড ফাউন্ডেশন

*নিজস্ব সংবাদদাতা, মেদিনীপুর:** ঢাকের কাঠি আর শঙ্খধ্বনির মধ্য দিয়ে মর্ত্যে শুরু হয়েছে দেবী দুর্গার বোধন। মা দুর্গার আগমনের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর সন্তানতুল্য ছোট ছোট কচিকাঁচারা যাতে উৎসবের আনন্দে নতুন পোশাকে শামিল হতে পারে, সেই লক্ষ্…

 


*নিজস্ব সংবাদদাতা, মেদিনীপুর:** ঢাকের কাঠি আর শঙ্খধ্বনির মধ্য দিয়ে মর্ত্যে শুরু হয়েছে দেবী দুর্গার বোধন। মা দুর্গার আগমনের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর সন্তানতুল্য ছোট ছোট কচিকাঁচারা যাতে উৎসবের আনন্দে নতুন পোশাকে শামিল হতে পারে, সেই লক্ষ্য নিয়ে এক আন্তরিক উদ্যোগ সম্পন্ন করল মেদিনীপুর জেলার সুপরিচিত সামাজিক সংগঠন ‘ইমারজেন্সী ব্লাড ফাউন্ডেশন’। মহাষষ্ঠীর পুণ্যলগ্নে মেদিনীপুর সদর ব্লকের পাইকারাপুর গ্রামের মহিলা পরিচালিত দুর্গাপুজো মণ্ডপ প্রাঙ্গণে আয়োজিত হলো সংগঠনের চতুর্থ তথা অন্তিম পর্বের বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি।

প্রতিবছরই মহাষষ্ঠীর দিনে এই বিশেষ কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করে থাকে সংগঠনটি। এদিন পাইকারাপুরের পুজো মণ্ডপে স্থানীয় গোবিন্দনগর ও কুচলাতলা এলাকার দুঃস্থ শিশু, নারী ও পুরুষ মিলিয়ে মোট ৪০ জনের হাতে পুজোর নতুন পোশাক তুলে দেওয়া হয়। বোধনের দিনে নতুন পোশাক হাতে পেয়ে খুদে কার্তিক-লক্ষ্মীদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস এবং মায়েদের মুখের তৃপ্তির হাসি মণ্ডপ চত্বরে এক অনাবিল আনন্দের আবহ তৈরি করে।

এদিনের অনুষ্ঠানে ইমারজেন্সী ব্লাড ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সম্পাদক রাহুল কোলে, অভিষেক সিংহ, শৌভিক পট্টনায়ক, দেবাশীষ ভূঁইঞা, গোপাল সাহা, মলয় দে প্রমুখ। অন্যদিকে পাইকারাপুরের মহিলা পরিচালিত পুজো কমিটির পক্ষ থেকে এই মহৎ উদ্যোগে সক্রিয় সহযোগিতা করেন শ্রাবন্তী বাগ, উমা বাসুলি, শ্যামল বেরা, আশীষ বাগ, সহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।

বস্ত্র বিতরণ শেষে সংগঠনের সম্পাদক রাহুল কোলে বিস্তারিত তুলে ধরে বলেন, "আজ আমাদের এই বছরের বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচির চতুর্থ তথা শেষ পর্ব সফলভাবে সম্পন্ন হলো। পিতৃপক্ষের অবসানে অর্থাৎ মহালয়ার দিন থেকেই আমাদের এই উদ্যোগের সূচনা হয় এবং দেবীর বোধনে এসে তা পূর্ণতা পায়। প্রথম পর্বে কাঁসাই তীরবর্তী অঞ্চল, দ্বিতীয় পর্বে শালবনির জঙ্গল ঘেরা পিরচক গ্রাম এবং গতকাল খয়রুল্লার চকে তৃতীয় পর্বের কাজ শেষ করার পর আজ আমরা ষষ্ঠীর দিন পাইকারাপুরে শেষ পর্ব সম্পন্ন করলাম। চার পর্বে সমাজের বিভিন্ন প্রান্তের মোট ১৬০ জন অসহায় মানুষের হাতে নতুন বস্ত্র পৌঁছে দিতে পেরেছি।"


বস্ত্র বিতরণের পাশাপাশি নিজেদের মূল ব্রত সম্পর্কেও সচেতন এই সামাজিক সংগঠন। রাহুলবাবু আরও যোগ করেন, "পুজোর দিনগুলিতে আনন্দ-উৎসবের মধ্যেও রক্তের সংকট যাতে কোনো মুমূর্ষু রোগীর জীবন সংশয় তৈরি না করে, সেদিকে আমাদের কড়া নজর রয়েছে। সংগঠনের সকল সদস্যকে বিশেষভাবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে উৎসবের আবহেও মেদিনীপুর জেলা জুড়ে রক্তের যে কোনো জরুরি প্রয়োজনে তৎক্ষণাৎ রক্তদাতারা এগিয়ে যেতে পারেন।" উৎসবের উন্মাদনার মাঝে রক্তদান ও মানবিক সেবাকে এভাবে এক সুতোয় বেঁধে রাখার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।