নিজস্ব প্রতিবেদক,নয়াগ্রাম, ঝাড়গ্রাম ...."জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর" - স্বামীজীর এই বাণীকে পাথেয় করে 'আমারকার ভাষা আমারকার গর্ব সুবর্ণরৈখিক ভাষা ও সংস্কৃতি পরিবারের' সদস্যা রীতা দাস দত্তের উদ্যোগ…
নিজস্ব প্রতিবেদক,নয়াগ্রাম, ঝাড়গ্রাম ....
"জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর" - স্বামীজীর এই বাণীকে পাথেয় করে 'আমারকার ভাষা আমারকার গর্ব সুবর্ণরৈখিক ভাষা ও সংস্কৃতি পরিবারের' সদস্যা রীতা দাস দত্তের উদ্যোগে শারদোৎসবের আনন্দ সবার মধ্যে ভাগ করে নিতে এক অনন্য উদ্যোগ দেখা গেল ঝাড়গ্রাম জেলার নয়াগ্রাম ব্লকের ভালিয়াচাটি গ্রামের লোধা পাড়ায় ।
দুর্গোৎসবের প্রাক্কালে রীতা দেবীর পক্ষ থেকে লোধা সম্প্রদায়ের মানুষের হাতে নতুন বস্ত্র তুলে দেওয়া হয় । উৎসবের দিনগুলোতে যাতে কোনো মানুষ আনন্দের আলো থেকে বঞ্চিত না থাকেন, সেই উদ্দেশ্যেই এই বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এদিন গ্রামের নব্বই (৯০) জন মহিলাদের হাতে শাড়ি তুলে দেওয়া হয় । নতুন পোশাক হাতে পেয়ে গ্রামের মহিলাদের মুখে চওড়া হাসি দেখা যায়।
সুবর্ণরৈখিক পরিবারের পক্ষ থেকে বিশ্বজিৎ পাল জানান, "পূজার আনন্দ শুধু মণ্ডপে বা আলোকসজ্জার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারলেই পূজার সার্থকতা। রীতা দিদির মাধ্যমে আমরা লোধা মা - দিদিদের পাশে দাঁড়াতে পেরে আনন্দিত।"
রীতা দেবী ওইদিন গ্রামের সবাইকে জানিয়ে দেন, শবর-জননী মহাশ্বেতাদেবীর অবর্তমানে তিনিই এখন ছোট বোন হিসেবে গ্রামের লোধাদের পাশে থাকবেন। লোধাদের সামগ্রিক উন্নয়নে বিশেষ জোর দেওয়ার জন্য তিনি প্রতি মাসে একবার করে এই গ্রামে আসবেন এবং সবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে কোন সমস্যা থাকলে তা লিপিবদ্ধ করে সমাধানের জন্য প্রশাসনের নজরে আনবেন।
লোধা সম্প্রদায়কে সরকারিভাবে বিশেষভাবে অনগ্রসর উপজাতি গোষ্ঠী (Particularly Vulnerable Tribal Group বা PVTG) হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে কিন্তু সচেতনতার অভাবে সরকারী নানান সুযোগ সুবিধা থেকে এখনও ওনারা বঞ্চিত রয়েছেন ।
উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গ্রামের শিক্ষক পুলকেশ ভক্তা সহ সমীর সিট, দেবাশীষ খিলারি, মিঠুন পাত্র সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। বস্ত্র বিতরণের পাশাপাশি গ্রামের ষাট (৬০) জন ছাত্র ছাত্রীদের একটি করে খাতা, কলম, চকলেট এবং মহিলাদের ঋতুস্রাব সম্বন্ধে সচেতন এবং বিনামূল্যে স্যানিটারি নেপকিন বিতরণ করেন রীতা দেবী। সভার শেষে গ্রামের প্রায় তিন সতাধিক (৩০০) মানুষের মধ্যাহ্ন ভোজনের বেবস্তা ছিলো । রীতা দেবীর এই মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকার সমস্ত স্তরের মানুষ।


