Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking News:

latest

মহালয়ার শুভ লগ্নে তমলুকে মানবতা ও পরিবেশ রক্ষার বার্তা: ২০ জন মাকে নতুন বস্ত্র প্রদান ও বৃক্ষরোপণ

অরুণ কুমার সাউ,তমলুক : মহালয়ার পূণ্য তিথিতে সমাজসেবা ও পরিবেশ সচেতনতার এক অনন্য নজির সৃষ্টি হলো পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুকের নিমতৌড়ির উত্তর সোনামুই গ্রামে। দেবীপক্ষের সূচনালগ্নে গ্রামটির দুই সামাজিক সংস্থা ‘স্বপ্নের উড়ান’ ও ‘…


অরুণ কুমার সাউ,তমলুক : মহালয়ার পূণ্য তিথিতে সমাজসেবা ও পরিবেশ সচেতনতার এক অনন্য নজির সৃষ্টি হলো পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুকের নিমতৌড়ির উত্তর সোনামুই গ্রামে। দেবীপক্ষের সূচনালগ্নে গ্রামটির দুই সামাজিক সংস্থা ‘স্বপ্নের উড়ান’ ও ‘স্বপ্নতরী’-র যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হলো এক বিশেষ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য ছিল গ্রামের প্রবীণ ও দুস্থ মায়েদের মুখে হাসি ফোটানো। শুভ এই দিনে গ্রামের ২০ জন দুস্থ ও প্রবীণ 'দশভূজা' মাকে নতুন বস্ত্রে সুসজ্জিত করে আগমনীর আনন্দে ভরিয়ে তোলা হয়। বস্ত্র বিতরণের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষার বার্তা দিতে প্রত্যেক মায়ের হাতে তুলে দেওয়া হয় একটি করে জামরুল গাছের চারা। এর মাধ্যমে সমাজসেবার পাশাপাশি সবুজের বার্তা ছড়িয়ে দেন উদ্যোক্তারা।


ফুল ও বৃক্ষ রোপণ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এদিন বিকেলে উত্তর সোনামুই গ্রামের প্রাঙ্গণে ফুলের চারা রোপণের মাধ্যমে পরিবেশ সচেতনতা কর্মসূচির সূচনা হয়। প্রখ্যাত পরিবেশবিদ দিলীপ কুমার পাত্রের হাত ধরে এই বিশেষ উদ্যোগের শুভ উদ্বোধন ঘটে। এরপর গ্রামের খুদে ও স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে মহালয়ার মাহাত্ম্য ও আগমনীর সুর নিয়ে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বৃক্ষপ্রেমী ও পরিবেশবিদ দিলীপ কুমার পাত্র, অধ্যাপক পরমেশ্বর আচার্য, ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রাক্তন সেনাকর্মী পবিত্র গোস্বামী ,শিক্ষিকা সুপর্ণা মাইতি ,সুদর্শন পাত্র এবং অন্যান্য স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব।

সংস্থার প্রধান কর্ণধার স্বপন মাইতি বলেন, "গ্রামের কুড়িজন দুস্থ, বয়স্ক ও দশভূজা স্বরূপা মাদের আগমনীর নতুন বস্ত্রে সাজিয়ে তোলার উদ্দেশ্যেই আমাদের এই আয়োজন। মাদের মুখে হাসি ফোটানোর এই অঙ্গীকার নিয়েই আমরা এগিয়েছি। এটি আমাদের প্রথম বর্ষের অনুষ্ঠান। সবার আন্তরিক সহযোগিতা ও ভালোবাসায় আমরা এটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছি।"

সংস্থার অপর সদস্য দীপ সামন্ত উদ্যোগের প্রশংসা করে জানান, "পূজোর আনন্দের পাশাপাশি পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি করতে দিলীপবাবুর এই বৃক্ষ প্রদানের ভাবনাকে আমি সাধুবাদ জানাই। এটি সমাজকে এক ইতিবাচক বার্তা দেবে।"


মহালয়ার পুণ্যপ্রভাতে এমন উদ্যোগ স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। প্রথম বছরের এই সাফল্য আগামী দিনেও সমাজকল্যাণমূলক কাজ চালিয়ে যেতে সংস্থা দুটিকে উৎসাহিত করবে বলে জানান আয়োজকরা।