শনিবার মহা সপ্তমীর স্নিগ্ধ সকালে নবপত্রিকা বা ‘কলাবৌ’ স্নানের মধ্য দিয়ে শারদোৎসবের মূল ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের প্রথাগত সূচনা হলো। হিন্দু শাস্ত্রনুসারে নবপত্রিকা মূলত নয়টি বিশেষ উদ্ভিদের সমাহার— কলাগাছ, কচু, হরিদ্রা (হলুদ), জয়ন্তী,…
শনিবার মহা সপ্তমীর স্নিগ্ধ সকালে নবপত্রিকা বা ‘কলাবৌ’ স্নানের মধ্য দিয়ে শারদোৎসবের মূল ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের প্রথাগত সূচনা হলো। হিন্দু শাস্ত্রনুসারে নবপত্রিকা মূলত নয়টি বিশেষ উদ্ভিদের সমাহার— কলাগাছ, কচু, হরিদ্রা (হলুদ), জয়ন্তী, বিল্ব (বেল), দাড়িম্ব (ডালিম), অশোক, মানকচু এবং ধান। এই ৯টি গাছ দেবী দুর্গার নয়টি বিশেষ রূপ বা ‘নবদুর্গা’র প্রতীক হিসেবে পূজিত হন।
সপ্তমীর ভোরে ঢাক, কাঁসর-ঘণ্টার বোল এবং মাঙ্গলিক শাঁখের ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে নদীঘাট ও জলাশয়গুলি। পুরোহিতের মন্ত্রোচ্চারণের সাথে সাথে নবপত্রিকাকে গঙ্গাস্নান বা জলাশয়ে স্নান করানো হয়। স্নান পর্ব হওয়ার পর নবপত্রিকাকে ঐতিহ্যবাহী লাল পাড় সাদা শাড়িতে সুসজ্জিত করে ঘোমটা দেওয়া বধূবেশে সাজিয়ে তোলা হয়।
দেবীর ডান দিকে, অর্থাৎ সিদ্ধিদাতা গণেশের ঠিক পাশে একটি কাঠের সিংহাসনে তাঁকে আদর ও মর্যাদার সাথে স্থাপন করা হয়। এরপরই অনুষ্ঠিত হয় দেবীর প্রাণপ্রতিষ্ঠা ও মহাসপ্তমীর মূল বিহিত পূজা।
শারদোৎসবের দিনগুলিতে মহামায়ার এই উদ্ভিদ রূপ প্রকৃতির প্রতি প্রাচীন মানুষের কৃতজ্ঞতা এবং পরিবেশ চেতনার অনন্য এক নির্দর্শন। নবপত্রিকা প্রবেশের পরই একপ্রকার ঢাক বেজে ওঠে বোধন পরবর্তী দুর্গাপূজার মূল পর্বের, আর মণ্ডপে মণ্ডপে শুরু হল এবারের দুর্গাপুজো।
কাজল মাইতির রিপোর্ট, দেশ মানুষ
