Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking News:

latest

ক্যাসিওপিয়া সাহিত্য পত্রিকা পরিচালকীয় সম্মাননা

হাম্পটি ডাম্পটি : অন্য চোখে

মনসিজ (দিব্বান গুহ)

     পাঠক, একটা প্রশ্ন দিয়ে শুরু করা যাক এই প্রবন্ধটিকে। কী বলেন, কেমন হবে ব্যাপারটা?!

     প্রশ্নটা কিন্তু খুবই সাধারণ। শিশু বয়সে বাংলা বা ইংরেজিতে যে নার্সারী রাইমসগুলো পড়েছেন, য…


হাম্পটি ডাম্পটি : অন্য চোখে

মনসিজ (দিব্বান গুহ)

     পাঠক, একটা প্রশ্ন দিয়ে শুরু করা যাক এই প্রবন্ধটিকে। কী বলেন, কেমন হবে ব্যাপারটা?!

     প্রশ্নটা কিন্তু খুবই সাধারণ। শিশু বয়সে বাংলা বা ইংরেজিতে যে নার্সারী রাইমসগুলো পড়েছেন, যেমন ''অ'য় অজগর আসছে তেড়ে" বা "হাম্পটি ডাম্পটি", "বা বা ব্ল্যাক শীপ" প্রভৃতি -- সেগুলো মনে আছে? পরিবারে আবার কোন শিশু এলে হয়তো সেগুলোর কথা ফের মনে পড়ে! তাই না? কিন্তু এমনি, সাধারণ অবস্থায়? কখনো কি মনে পড়ে সেগুলো? নিজের থেকে জোর করে মনে করেও কি কখনো সেগুলো আউরান মনে মনে?

     উত্তরটা সম্ভবত "না"। বিশ্বাস করুন, আমিও মনে করতাম না যদি না নিয়তি আমাকে এই পথে এনে ফেলতো -- মানে এই বিশেষ পথে। পথটি হলো একটি খুব জটিল বিষয় নিয়ে গভীর পড়াশুনা -- সাইকো-ফিলোজফি বা মনস্তত্ব-দর্শন। মানুষের যাবতীয় ব্যাবহারিক আচার-আচরণের এক জটিল মনস্তাত্তিক ও দার্শনিক কারণ-অনুসন্ধান তথা ব্যাখ্যা।

     আর সেই পড়াশুনা করতে গিয়েই নার্সারী রাইমসের চরিত্রদের ধরে কাঁটাছেড়া করে দেখতে হয়েছিল -- এঁদের থেকে ব্যাবহারিক জীবনের পক্ষে আদর্শ কোন মৌলিক শিক্ষা অর্জন করা যায় কিনা। সেই গবেষণারই ফল হাম্পটি ডাম্পটিকে নিয়ে আমার এই বিশেষ উপলব্ধি, যা এই প্রবন্ধে আমি তুলে ধরতে চলেছি।

     তাই প্রথমেই আসুন মনে করে নেই সেই হাম্পটি ডাম্পটির ছড়াটা --

Humpty Dumpty sat on a wall.

Humpty Dumpty had a great fall.

All the King's horses, and

All the King's men--

Could not put Humpty

Together again.

     আচ্ছা, বলুন তো, এই হাম্পটি ডাম্পটি কে? আপনি, আমি, আমরা -- জগতের সিংহভাগ মানুষ। আমরা, যারা নিজেদের অসাধারণ মনে করি; অসাধারণ হবার দাবিও করি। কিন্তু আমরা নিতান্তই মামুলি, সাধারণ মানুষ। কোন অসাধারণত্বই নেই আমাদের মধ্যে। যারা 'অসাধারণ', তারা কেন অসাধারণ জানেন? কারণ তারা নিজেদের অসাধারণ মনে করেন না; তেমন দাবিও করেন না। তাই হাম্পটি সাধারণের প্রতীক, সাধারণের প্রতিনিধি।

     এই সাধারণরা কেমন মানুষ? এদের চোখে আলো নেই (এখন তো কালো চশমা পড়ার যুগ, আর কালো চশমার ভেতর দিয়ে কি আর আলোর আসল রূপ দেখা যায়! আলো তো সাতরঙা। কিন্তু কালো চশমা দিয়ে তো সব কালোই দেখায়।), কানে সুর নেই (কারণ এখনকার 'মিউজিকে' বাদ্যযন্ত্রের ঝংকারই শুধু থাকে), কণ্ঠে মিষ্টতা নেই (পি. এন  পি. সি.-র স্বাদ তেতোই হয়), শ্বাস দুর্গন্ধযুক্ত (কিন্তু মদ না খেলে বা অন্য নেশা না করলে যে স্টেটাস থাকে না), স্বাদ মরে গেছে (হবে না! যা পাওয়া যায় - তাই খাওয়া, গান্ডেপিন্ডে খাওয়া। সবই নাকি খেয়ে দেখতে হয়! রসনার কি মহিমা বাবা!)।

     এবারে হাম্পটির চেহারাটা মনে করুন। পেটটা জালার মতো, মাথাটা ডিমের মতো। অধিকাংশ বইতে এইভাবেই আঁকা হয়েছে হাম্পটিকে। মাথায় কিছুই নেই, অথচ ডিম্বাকৃতি। মানে থাকা উচিত ছিলো সবকিছুই। Universe-এর সংস্কৃত প্রতিশব্দটি হলো 'ব্রহ্মাণ্ড'। অর্থাৎ ব্রহ্মের  অণ্ড। 'ব্রহ্ম' আর 'ব্রহ্মাণ্ড' 'এক'ই  'বস্তু'। 'ব্রহ্ম' আর 'ব্রহ্মাণ্ড' 'এক', 'অভিন্ন', 'অবিচ্ছেদ্য'। যা ব্রহ্ম, তা-ই ব্রহ্মাণ্ড। সুতরাং অণ্ডবৎ সবকিছুই পরম চেতনা সম্পন্ন, অর্থাৎ জ্ঞানী। মানুষের মাথার খুলি বা মগজের ছবি দেখলেই দেখতে পাবেন যে ওগুলো ডিম্বাকৃতি। সুতরাং মানুষ মাত্রই জ্ঞানী। কারণ অণ্ডের মধ্যেই প্রাণস্বরূপ বীজ সংশ্লিষ্ট প্রাণীর আকৃতিতে অংকুরিত হয়। অথচ অণ্ডবৎ মুন্ডের অধিকারী হয়েও হাম্পটি গিয়ে বসে নিয়েছে একটা সরু দেওয়ালের ওপর। সরু দেওয়ালের ওপর বসা যে কখনই নিরাপদ নয়, এ সত্য বচন হাম্পটি স্রেফ ভুলে গেছে। কীসের জন্যে, জানেন?

     ওই বিশাল মোটা জালার মতো পেটটার জন্য। বেশি খেয়ে খেয়ে পেটটা ফুলে ঢোল হয়েছে। মাথাটা আর কাজ করছে না (অধিক/অত্যধিক আহারীর বুদ্ধিমত্তার মাত্রা যে বেশ কমই হয় (low level of intelligence), এটি এখন বিজ্ঞান প্রমাণিত সত্য)। আর 'খিদের' রকমই শেষ নেই। 'খাবার'ও অঢেল। শুধু খাবার ইচ্ছে হলেই হলো। আর ইচ্ছে থাকলেই যেহেতু উপায় হয়, তাই খাবার জোগাড় করার এবং জোগান দেওয়ার নিত্যনতুন 'কৌশল' আবিষ্কৃত হয়েছে, হচ্ছেও প্রতিদিন। 'গোটা দুনিয়াটাই খাদ্য, আর আমরাই হচ্ছি একমাত্র খাদক' -- এমনটাই হয়েছে মানুষের মানসিকতা এখনকার দিনে। তাই খাবার ইচ্ছে হলেই হলো। আর কে খেতে পেলো, না পেলো - দেখার দরকার নেই। শুধু 'আমি' একা খেতে পেলেই হবে। এবং নিজের থেকে ভাগ করে খাওয়ার প্রশ্ন অবান্তর। তবে কেউ ভাগ চাইলে, তাকে শর্ত মানতে হবে। ওদিকে আবার যারা খেতে না পেয়ে 'পেলাম না', 'পেলাম না' করে চিৎকার করে, তাদের একদল মিথ্যাবাদী। তারা লুকিয়ে খায়। আরেকদল একেবারেই নিরেট, নির্বোধ। তারা খাওয়ার কৌশলই জানে না।

     হাম্পটি সংখ্যাগরিষ্ঠের প্রতীক। প্রকাশ্যে খায়, অপরেরটা কেড়ে নিঃশেষ করে খায়। তারপর পেটটা ফুলে ঢোল হলে উঁচু দেওয়ালে উঠে বসে যাতে তৃপ্তির ঢেকুর তোলার শব্দটা ছড়িয়ে পরে দিকে দিকে, চতুর্দিকে, বহু দূর পর্যন্ত। এই 'তৃপ্তির ঢেকুর', যার নাম 'দম্ভ', তার চোখে এমন কালো ঠুলি এঁটে দিয়েছে যে সে দেখতেই পায়নি, ওই দেওয়ালটা আসলে সাদা আর কালো, আলো আর আঁধার, সত্য আর মিথ্যা, জ্ঞান আর অজ্ঞানতার মাঝের সীমারেখা। সে উঠে বসেছে। Humpty Dumpty sat on a wall।

     সবাই তাকে দেখছে। আর মনে মনে ভাবছে -- ওই জায়গাটায় 'আমি' কবে উঠবো! কীভাবে উঠবো -- সেই চিন্তা কেউ করছে না। সে তো সবাই জানিই। ও যা করেছে, মোটামুটি তা-ই করতে পারলেই হবে। 'প্রতিদিনের বেঁচে থাকাটাই যেখানে নকল করে চালাচ্ছি, সেখানে নকল করে একটা দেওয়ালের ওপর উঠে বসা যাবে না! খুব যাবে।'

     তারপর কি হলো? Humpty Dumpty had a great fall। হাম্পটি পড়ে গেলো। এখানে অনেকগুলো প্রশ্ন আছে।

     এক, হাম্পটি কোন দিকে পড়লো? উত্তর, দেওয়ালের যে দিক থেকে সে উঠেছিলো। দুই, সে কোন দিক? যেহেতু হাম্পটি আমাদের প্রতিনিধি, তাই বলা যায়, আমাদের দিক থেকে উঠেছিলো, আর সে দিকেই পড়লো। তিন, আমরা তাহলে দেওয়ালের কোন দিকে আছি? কালো দিকে। না হলেও হাম্পটির মতো লোককে কি আমরা আমাদের প্রতিনিধি বলতে পারতাম?! চার, হাম্পটি উল্টো দিকে পড়লো না কেন? তাহলে কি আমরা দেখতে পেতাম হ্যাম্পটির কি হলো! হাম্পটি আমাদের দিকেই মুখ করে বসেছিলো, আর আমাদের দিকেই পড়লো। কারণ তার পড়ে যাওয়াটা যতটা তাৎপর্যপূর্ণ, ততটাই গুরুত্বপূর্ণ আমাদের সেই পতনের সাক্ষী হওয়া। একজন সাক্ষী না থাকলে কারুর ওঠা বা পড়ার মূল্য কি? তাছাড়া উল্টো দিকটা তো অজানা। কালো চশমার মধ্যে দিয়ে সেদিকটা তো কালোই দেখাচ্ছিলো। হাম্পটি পার্থক্য করবে কি করে? তাছাড়া, অজানা দিকে মুখ করে বসে তার লাভই বা কি? তাই হাম্পটি ওদিকে মুখই ফেরায়নি। কারণ, কে দেখবে তাকে? কেই-ই বা তাকে চিনবে? আর কেই-ই বা তার ঢেকুরের শব্দে গদগদ হয়ে আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে গর্জন করে উঠবে -- সর্বখেকোদের মহান নেতা ঢেকুর তুলছেন, মনে দিয়ে শোনো। বাকি সব শব্দ হলো 'বুর্জোয়া'।

     হাম্পটি তাই আমাদের দিকেই মুখ করে বসেছিলো, আর আমাদের দিকেই পড়ে গেলো। অথচ আশ্চর্য! কেউ কিন্তু প্রশ্ন করলো না - 'কেন'? কেন পড়লো হাম্পটি? কিভাবেই বা পড়লো? কারণ, আমরা বেশিভাগই খুশিই হলাম। যেন জানতাম, এমনটাই হবে। যেন অপেক্ষাই করছিলাম এমনটা ঘটার জন্যে। মনে মনে ভাবলাম -- 'যাক বাঁচা গেছে। এবার দেখি ভাগ্যের শিকে ছেঁড়ে কিনা!' অর্থাৎ 'ওই দেওয়ালের ওপর আমি উঠতে পারি কিনা!' একবারও মনে হয় না যে ওই দেওয়ালে উঠতে চাওয়া আসলে হাম্পটি হতে চাওয়া এবং হাম্পটির মতো পতনও সেক্ষেত্রে অনিবার্য।

     কিন্তু হাম্পটি পড়লো কেন? একটা সরু দেওয়ালের ওপরে বসে অতো বড় বিশাল বপুযুক্ত শরীরটার ভারসাম্য কি বজায় রাখা যায়? তাই ঢেকুর তুলতেই বেসামাল হয়ে হাম্পটি পড়ে গেলো। এবার আপনি আরো একটা প্রশ্ন করতে পারেন -- দেওয়ালটাই বা সরু কেন? কারণ, মোটা হলে, সে দেওয়াল দুর্ভেদ্য হতো। জ্ঞান আর অবিদ্যার মাঝের প্রাচীর খুবই সরু এবং সহজেই ভেদ্য। শুধু একটিই হাতিয়ার লাগে এ প্রাচীর ভেদ করতে। 'ইচ্ছা'। ইচ্ছা এমন একটি শক্তি যার প্রয়োগে এই প্রাচীর ভেদ করে অজ্ঞানতা থেকে জ্ঞানের জগতে গিয়ে উপনীত হওয়া যায়। ভগবান বুদ্ধ আর আসিসির সেন্ট ফ্রান্সিস এই মর্মে দুই জ্বলন্ত উদাহরণ। প্রশ্ন শুধু একটাই। এই শক্তি প্রয়োগ করতে আপনি 'চান' কিনা। অর্থাৎ ইচ্ছারও আদিতে যে 'ইচ্ছা' আছে, তাঁকে জ্ঞাত হওয়া। হাম্পটির অন্তত সেই জ্ঞান ছিলো না। তাই সে দেওয়ালে চড়ে বসে 'ঢেকুর' তুলতে গেছিলো।

     তারপর! হাম্পটি পড়ে যেতেই ছুটে এসেছে রাজার ঘোড়াগুলো এবং রাজার লোকজন। এর আবার দুইটি দিক আছে। এক, সর্বখেকোদের মহান নেতার পতন! এমন 'সম্পদ'কে রক্ষা করতে সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে আজকের 'রাজকুল' -- ওই সর্বখেকোদের দলবল। কিন্তু হায়! তাদের সব চেষ্টা বৃথা যায়। হাম্পটি চুরমার হয়ে গেছে, তাকে আর জোড়া লাগানো গেলো না। কারণ অসীমকে সীমিত করা এদের সাধ্যাধীন হলেও, অন্তকে অনন্ত করা এদের সাধ্যাতীত। গরমাগরম ডায়লগ, প্রতিশ্রুতির মিথ্যা স্রোত, সবই তাই বিফলে গেলো।

     দ্বিতীয় চিত্রটি অন্যরকম, এক নম্বরের ঠিক বিপরীত। হাম্পটিকে বাঁচাতে 'রাজাধিরাজ' সেই গ্রেট কিং (আমাদের মাথার ওপরে আকাশ রূপী গৃহতে যাঁর বাস) তাঁর সর্ব 'শক্তি' ও সর্ব 'চেতনা' নিয়োগ করেছেন। হাম্পটির মতো সর্বগ্রাসী সর্বভূখের প্রতিও তাঁর কি অসীম করুনা, কি দয়া, কি মমতা!

     অশ্ব হচ্ছে শক্তির প্রতীক। পদার্থ শক্তি, বস্তু শক্তি, বাহ্য শক্তি, ক্রিয়াশক্তি। মানুষ হচ্ছে চেতনার প্রতীক, কারণ মানুষ ছাড়া অন্যসব প্রাণীদের চেতনার চেয়ে প্রবৃত্তি বেশি শক্তিশালী। এই চেতনা বা চিৎশক্তি ও কৃৎশক্তির একীকরণে আমরা জেগে উঠি, হাম্পটিরা বেঁচে যায়। তাই 'মহারাজ' অশ্ব আর মানুষ পাঠিয়েছেন হাম্পটিকে 'জোড়া' লাগাতে। জোড়া লাগিয়ে যদি একটিবারও 'জাগিয়ে' তোলা যায় তাকে। কারণ তিনি কাউকেই হিংসা করেন না, কারুর ওপরেই রাগ করেন না, কারুকেই সাজা দেন না। তিনি তো 'সত্য'! 'মিথ্যা'র আচরণ, অর্থাৎ ভালো-মন্দের বিচার করা, কাউকে গুনবান, কাউকে গুনহীন জ্ঞান করা, কাউকে অপরাধী সাবস্ত করা ও সাজা দেওয়া, তো কাউকে প্রশংসা করা ও উপহারে ভরিয়ে দেওয়া -- কোনোটাই করেন না। তিনি আমাদের সৃষ্টি করার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের জন্য তৈরি করেছেন একটি 'চৌম্বকীয় ক্ষমতাসম্পন্ন আদর্শ আচরণ বিধি'। এই বিধি অনুসারে আমরা যা 'কার্য' করবো, তা আসলে 'কারণ' বলে পরিগণিত হবে এবং সেই কার্যের ফলস্বরূপ ঠিক ততটুকুই আমাদের ফিরিয়ে দেবে, যতটুকু দিলে 'কার্য-কারণ' প্রক্রিয়া সম্পূর্ণতা লাভ করে। এবং কার্য নিজেও যেহেতু একটি কারণের ফল, যার নাম 'চিন্তা', সেহেতু যা আমরা চিন্তা করবো, তা-ই আমরা বাস্তবে অভিজ্ঞতা করবো। এই বিধি একবার তৈরি করার পর 'discipline'- এর কঠিন শৃঙ্খলে 'মহারাজ' নিজেকে এমন শৃঙ্খলিত করে নিয়েছেন যে ওই বিধি ভঙ্গ করার কোন উপায় তাঁর নিজেরও নেই, কারণ এমন কোন ইচ্ছাই তাঁর নেই।

     কিন্তু যেহেতু তিনি দয়াময়, তাই হাম্পটির সাহায্যে শক্তি ও চেতনাকে পাঠিয়েছেন যদি তাঁদের দেখে হাম্পটি আবার জেগে উঠতে চায়! কিন্তু হায় হাম্পটি! নিজে না চাইলে যে 'কার্য-কারণ' সূত্র বিপরীত রীতিতে কাজ করতে অক্ষম। চাইলে চাওয়ার পক্ষে, না চাইলে না চাওয়ার পক্ষেই সে কাজ করবে। অতএব 'মহারাজনের' শক্তিরাও ব্যর্থ হয়। হাম্পটিরা আর কোনদিনে জোড়া লাগে না। বুজলেন কিছু?