Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking News:

latest

সৃষ্টি-সাহিত্য-পত্রিকা-দৈনিক-সেরা-লেখনি-সম্মাননা

বিভাগ-গল্পশিরোনাম- আজো তোমায় ছুঁয়ে থাকা কলমে ---সঙ্গীতা ধাড়া ২৬.০৯.২০ শব্দ সংখ্যা-৪৭৮
সকাল সকাল এত বৃষ্টি , চারিদিক অন্ধকার হয়ে গেছে । সেই কোন সকালে মোম আর বাবা -মা অনিদের বাড়িতে হাজির । হ্যাঁ আমি মোম ,এই গল্পের কথক। অনির ছুট…

 


বিভাগ-গল্প

শিরোনাম- আজো তোমায় ছুঁয়ে থাকা 

কলমে ---সঙ্গীতা ধাড়া

 ২৬.০৯.২০ 

শব্দ সংখ্যা-৪৭৮


সকাল সকাল এত বৃষ্টি , চারিদিক অন্ধকার হয়ে গেছে । সেই কোন সকালে মোম আর বাবা -মা অনিদের বাড়িতে হাজির । হ্যাঁ আমি মোম ,এই গল্পের কথক। অনির ছুটি শেষ ।সে প্রায় তিন বছর হবে আর্মিতে আছে । আর্মির প্রতি আমার এক গভীর ভালোবাসা আছে ,তাই অনিকে আমরা সবাই খুব সাপোর্ট করেছিলাম । হ্যাঁ , অনি আর আমি এক সাথেই বড় হয়েছি ,আর এই দৃঢ় বন্ধুত্বটা কবে কবে যে ভালোবাসায় পরিণত হল জানি না । বাবার বন্ধুর একমাত্র সন্তান অনি । আমরা দুজনে আজ খুব খুশি । কারণ আমাদের দুজনের এই ভালোবাসা পরিণতি পেতে চলেছে । ভালোমা ,মানে অনির মায়ের কাছেই কেটেছে আমার ছোট বেলা ।তাই বাড়তি পাওনাটা ভালোমা-এরকাছ থেকেই পেতাম । পরের বারে ছুটিতে আমাদের বিয়ে । তাই অনি চলে যাওয়ার আগে নিজেদের পছন্দমতো সকল জিনিস কেনা কাটা করা হল । আজ মনটা খুব খারাপ লাগছে ।সাথে আনন্দ ও । পরের বারে অনি পাকাপাকি ভাবে আমার হবে । কান্না হাসির মধ্যে দিয়ে ওকে আমরা বিদায়  জানালাম । ফোনে চললো নতুন জীবনের পরিকল্পনা । আর এদিকে ভালোমা-এর সাথে নিজের নতুন ঘরকে মনের মতো করে সাজিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল । সবকিছু দেখে  অলক্ষ্যে ঈশ্বর ও হেসেছিলেন । সমস্ত প্রস্তুতি পর্ব যখন প্রায় শেষ। বাবা ,মা সবাই কি নিয়ে এত চিন্তিত , কি আলোচনা করছেন তারা ? বুঝতে পারলাম না । শুধু অশুভ চিন্তা মাথায় চলে আসছিলো । অনি তিন দিন ফোন করেনি । ব্যস্ত থাকলে সে এমনটা করে । মা এসে বললেন "চলো অনিদের বাড়িতে যাই" । আমি কোনো প্রশ্ন না করে বাবা -মায়ের সঙ্গ ‌নিলাম । এত ভিড় কেন ? অনির পিসি,মাসি সবাই এসেছে । হঠাৎ বুকের ভিতরটা অজানা আশঙ্কায় কেঁপে উঠলো । এত আর্মি পুলিশ । মায়ের হাত ছেড়ে দৌড়ালাম । ভালো মা আমাকে দেখে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো। আমি স্তব্ধ হয়ে গেলাম। নতুন ভাবে দেখলাম আমার অনিকে ।অনি -অনি -অনি ডাকতে থাকলাম। অনেক অভিযোগের সুর তুললাম ।এই ভাবে তো আসার কথা ছিল না তার । বাইরের এত লোকজনের কথাবার্তা ও মানুষ গুলো ঝাপসা হয়ে গেল নিমেষ । কতক্ষন জ্ঞান ছিল না জানি না । অনি আর আমি আলাদা হয়ে গেলাম ।ও চলে গেল মাটিতে ঠাঁই নিতে আর আমি দীর্ঘদিনের জন্য বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরে , শেষে ঠাঁই পেলাম মানসিক হাসপাতালে ।অনি যে দিন পাকাপাকি ঘর ছাড়ল ,উফ্ সেদিন ও বাইরে কি বৃষ্টি ।জানতে পারলাম জ্বর হয়েছিল , সেই অজানা জ্বর আমাদের বহু পরিকল্পনাতে ইতি টেনে দিল । আমার অনি তার প্রিয় রজনীগন্ধাতে খুব করে সেজেছিল ।আর একটা বছর আমার জায়গা হল মানসিক হাসপাতাল । অনি আমার হৃদয়ের সাথে মাথার মধ্যে অবস্থান করেছিল । নিত্য যাতায়াত ছিল তার আমার সকল অবসরে ।সে চলে গিয়ে ও রয়ে গেল আপামোর হৃদয়ে । ডাক্তার,নার্স,বাবা ,মা, ভালো মা , কাকুর ভালোবাসা ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আজ আমি দাঁড়িয়ে আছি । সেই সাজানো ঘর আজো সেই ভাবে । আমার বাবা-মায়ের মতো আমি ভালো মা -কাকুর সন্তান হয়ে গেলাম ।শিকড় যেমন মাটিকে আষ্টেপৃষ্ঠে ধরে বেঁচে থাকে । আমার চার বাবা মা তেমন ভাবে আষ্টেপৃষ্ঠে ধরে বেঁচে আছেন ।অনি অবর্তমানে অনেক কিছুই দিয়ে গেল আমায় । প্রতি বছর অনির প্রিয় রজনীগন্ধাতে তাকে সাজিয়ে আসি আমি । সেদিনের সেই বৃষ্টি ও অনির বিদায় বেলায় কেঁদেছিল , এবারে ও ২৮ শে জৈষ্ঠ্য সে আমার সাথে ছিল । অনি আজো আমি পারিনি কোনো নতুন পৃথিবী গড়তে । তোমার শূন্যতাতে পরিতৃপ্ত আমি ।।