অরুণ কুমার সাউ; তমলুকঃ বৃহস্পতিবার কলকাতার ধনধাণ্য অডিটোরিয়ামে এ বছরের শিক্ষারত্ন পুরস্কার পেলেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার দুই শিক্ষক। শিক্ষাক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য এই বিশেষ সম্মান পেলেন জেলার এই দুই শিক্ষক। তাঁরা হলেন পাঁ…
![]() |
| শেখ আব্দুস সাত্তার |
![]() |
| সুপ্রতিম মান্না |
অরুণ কুমার সাউ; তমলুকঃ বৃহস্পতিবার কলকাতার ধনধাণ্য অডিটোরিয়ামে এ বছরের শিক্ষারত্ন পুরস্কার পেলেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার দুই শিক্ষক। শিক্ষাক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য এই বিশেষ সম্মান পেলেন জেলার এই দুই শিক্ষক। তাঁরা হলেন পাঁশকুড়ার ঘোষপুর হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুপ্রতিম মান্না। জেলার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় গুলির মধ্যে তিনিই একমাত্র পুরস্কার প্রাপক। এছাড়াও নন্দকুমারের নাইকুণ্ডি মক্তব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ আব্দুস সাত্তার পেয়েছেন শিক্ষারত্ন।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাদের শিক্ষারত্ন প্রদান অনুষ্ঠানে তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। জানা গেছে, পাঁশকুড়ার ঘোষপুর হাই স্কুলের একসময় ছাত্র ছিলেন সুপ্রতিমবাবু। নবম শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত এই স্কুলে পড়েছেন তিনি। ২০০২ সালে প্রথমে সহ শিক্ষক হিসেবে যুক্ত হলেও ২০২৪ সাল থেকে ঘোষপুর হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন তিনি। এর আগে ২০০২ সালে নন্দকুমারের মল্লিকচক অমরস্মৃতি বিদ্যাপীঠ ও ২০০৭ সালে খড়্গপুরের জফলা আদর্শ বিদ্যায়তনের শিক্ষক ছিলেন তিনি। বর্তমানে ঘোষপুর হাই স্কুলে তিনি স্কুলের একাধিক উন্নয়ন ও সামাজিক কাজের সাথে যুক্ত। তাঁর হাত ধরে এই স্কুলে চালু হয়েছে স্মার্ট ক্লাসরুের। একসময় স্কুলের হোস্টেল প্রায় শূন্য হয়ে গিয়েছিল। সেখানেই সুপ্রতিমবাবুর হাত ধরে আজ সেই হোস্টেলে আশেপাশের জেলা অর্থাৎ ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া থেকেও ছাত্র- ছাত্রীরা থেকে পড়াশোনা করছেন। ক্রীড়া ক্ষেত্রেও রাজ্য এবং জেলাস্তরে সুপ্রতিমবাবুর নেতৃত্বে এই স্কুল শ্রেষ্ঠত্বের পুরস্কার ছিনিয়ে এনেছে। নিয়মিত বাল্যবিবাহ থেকে মোবাইল ফোনের সুফল ও কুফল নিয়ে আলোচনা শিবির, রক্তদান শিবির, সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ, বিভিন্ন সোশ্যাল অ্যাওয়ারনেস, আয়োজন করেন সুপ্রতিমবাবু। তিনি বাংলা শিক্ষা পোর্টালের কাজ করেন রাজ্য জুড়ে। তাঁর এই সম্মান পাওয়ার খবরে খুশি ছাত্র-ছাত্রীরাও। অন্যদিকে, সংখ্যালঘু এলাকার প্রত্যন্ত গ্রামের বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নজির গড়েছেন শেখ আব্দুস সাত্তার। তিনি ১৯৯৯- ২০০৮ সাল পর্যন্ত ব্যবত্তারহাট টিকারামপুর প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষকতা করেছেন। চাকরিতে যোগ দেওয়ার এক বছর পর অর্থাৎ ২০০০ সাল থেকেই প্রধান শিক্ষক হয়েছেন তিনি। এরপর ২০০৮ সালের পর থেকে নাইকুন্ডি মক্তব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক সাত্তারবাবু। তাঁর নেতৃত্বেই এই প্রাথমিক বিদ্যালয় পেয়েছে নির্মল বিদ্যালয়, জেলার সেরা বিদ্যালয়, স্বচ্ছ বিদ্যালয়ে এবং শিশু মিত্র পুরস্কারের মত একাধিক সম্মান।
বাড়ি মহিষাদলের লক্ষ্যা গ্রামে হলেও স্কুলছুট কমাতে দিনের পর দিন এই গ্রাম থেকে ও গ্রাম ছুটে বেরিয়েছেন এই শিক্ষক। প্রাইভেট স্কুলগুলোর সাথে নিরব লড়াইয়ের মাঝেও সাত্তারবাবুর এই স্কুল আজ এলাকাবাসীর কাছে সেরার সেরা। দুই শিক্ষারত্ন সুপ্রতিম মান্না এবং শেখ আব্দুস সাত্তার বলেন, “এই পুরস্কার থেকে সমাজ এবং স্কুলের জন্য আরও দায়িত্ব বেড়ে গেল।” পূর্ব মেদিনীপুর জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক পলাশ রায় বলেন, “এবছর নতুন করে সম্মাননা জানানোর জন্য আবেদন গ্রহণ করা হয়নি। ফলে গত বছরের তালিকায় থাকা এই দুই শিক্ষক শিক্ষারত্ন সম্মান পান। তাঁদের অভিনন্দন জানাই আমি।”


