Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking News:

latest

শোকের পাহাড় বুকে নিয়ে লড়াই, মায়ের শ্রাদ্ধ সেরে ইতিহাস পরীক্ষায় সম্রাট

কাজল মাইতি , দেশ মানুষ: চোখের জল তখনও শুকোয়নি। বাড়ির উঠোনে মা পারমিতা দেবীর পারলৌকিক ক্রিয়ার রেশ টাটকা। কিন্তু শোকের সেই পাহাড় বুকে চেপে রেখেই শুক্রবার ফের পরীক্ষার খাতায় কলম ধরল সম্রাট সামন্ত। মাধ্যমিকের প্রথম দিনেই পথ দুর্ঘটনা…

 কাজল মাইতি , দেশ মানুষ: চোখের জল তখনও শুকোয়নি। বাড়ির উঠোনে মা পারমিতা দেবীর পারলৌকিক ক্রিয়ার রেশ টাটকা। কিন্তু শোকের সেই পাহাড় বুকে চেপে রেখেই শুক্রবার ফের পরীক্ষার খাতায় কলম ধরল সম্রাট সামন্ত। মাধ্যমিকের প্রথম দিনেই পথ দুর্ঘটনায় মাকে হারিয়েছে সে। অথচ সেই দুঃসংবাদ আড়াল করেই দ্বিতীয় পরীক্ষা দিয়েছিল কিশোর। শুক্রবার ইতিহাসের পাতায় যখন সে লড়াইয়ের কথা লিখছে, বাইরে তখন আহত শরীরে ছেলের ভবিষ্যতের স্বপ্নে বুক বেঁধে বসে বাবা ও দিদি।

গত সোমবার ছিল মাধ্যমিকের প্রথম দিন। পাঁশকুড়া থেকে ছেলেকে তমলুক হ্যামিল্টন হাইস্কুলের হোস্টেল থেকে মাধ্যমিক সেন্টার তমলুক হাইস্কুলে পৌঁছে দিতে এসেছিলেন বাবা সূর্য মন্ডল ও মা পারমিতা দেবী। ছেলেকে পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢুকিয়ে দিয়ে ফেরার পথেই ঘটে যায় সেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় মা পারমিতা সামন্তের। গুরুতর আহত হন বাবা সূর্যবাবুও।

সম্রাটের পরীক্ষা যাতে নষ্ট না হয়, তাই পরিবারের তরফে অদম্য সাহসে সেই সত্যি গোপন রাখা হয়েছিল। দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ মঙ্গলবার সম্রাট পরীক্ষা শেষ করার পর যখন আত্মীয়দের গাড়িতে পাঁশকুড়ার বাড়িতে ফেরে, তখনও সে ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি কী অঘটন ঘটে গিয়েছে। বাড়িতে পা রাখার পর যখন চিরঘুমের দেশে চলে যাওয়া মায়ের মুখোমুখি হয় সে, তখন সবটা ওলটপালট হয়ে যায়।

"আমি স্বপ্নেও ভাবতে পারিনি এমন কিছু ঘটতে পারে। মা আমায় পরীক্ষা দিতে দিয়ে হাসিমুখে বাড়ি ফিরছিল," অশ্রুসজল চোখে জানাল সম্রাট।

মাঝখানে দুদিন স্কুলের ছুটি থাকায় সম্রাটের পক্ষে নিজেকে কিছুটা গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ ছিল। গতকালই পারমিতা দেবীর শ্রাদ্ধের কাজ মিটেছে। শোকাতুর পরিবেশের মধ্যেই রাতে বই নিয়ে বসেছিল সম্রাট। শুক্রবার সকালে বাবা সূর্য মন্ডল আহত শরীরে ব্যান্ডেজ নিয়ে দিদিকে সঙ্গে করে সম্রাটকে নিয়ে পৌঁছন পরীক্ষা কেন্দ্রে।

সূর্যবাবুর কথায়, "নিজের চোটের চেয়েও এখন বড় লড়াই ছেলেকে মানুষ করা। ওর মা স্বপ্ন দেখত ছেলে বড় হবে। সেই স্বপ্ন ভাঙতে দেব না।"

পরীক্ষা শেষে সম্রাট জানায়, পরীক্ষা ভালো হয়েছে। বাকি পরীক্ষাগুলোও সে মায়ের স্মৃতিটুকু সম্বল করেই দিতে চায়। তমলুকের হ্যামিল্টন হাইস্কুলের শিক্ষক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ— সকলেই কিশোরের এই মানসিক দৃঢ়তাকে কুর্নিশ জানাচ্ছেন।