নন্দীগ্রামে ‘শুভেন্দু বনাম শুভেন্দু’! পূর্ব মেদিনীপুরের চার কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থীর নামে নির্দল, তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা.রাজ্যের হাইভোল্টেজ কেন্দ্র নন্দীগ্রাম। গত বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রই দেখেছিল রাজ্যের সবথেকে বড় রাজনৈতিক য…
নন্দীগ্রামে ‘শুভেন্দু বনাম শুভেন্দু’! পূর্ব মেদিনীপুরের চার কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থীর নামে নির্দল, তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা.
রাজ্যের হাইভোল্টেজ কেন্দ্র নন্দীগ্রাম। গত বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রই দেখেছিল রাজ্যের সবথেকে বড় রাজনৈতিক যুদ্ধ। তবে এবারের লড়াইয়ের মেজাজ কিছুটা আলাদা। এবার লড়াই কেবল রাজনৈতিক দলের মধ্যে নয়, লড়াই এক নামের দুই প্রার্থীর মধ্যেও। নন্দীগ্রামে এবার পদ্ম শিবিরের প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধেই লড়াইয়ে নামলেন আরও এক শুভেন্দু অধিকারী! তবে তিনি হেভিওয়েট কেউ নন, কলকাতার গড়ফা থানার কালিতলা লেনের এক বাসিন্দা।
একই চিত্র ধরা পড়েছে পূর্ব মেদিনীপুরের আরও তিন কেন্দ্রে। তমলুক, নন্দকুমার এবং মহিষাদল— চার কেন্দ্রেই বিজেপি প্রার্থীদের ‘অপর’ নামের নির্দল কাঁটায় বিদ্ধ গেরুয়া শিবির। ভোটের মুখে এই ‘নাম-বিভ্রাট’ ঘিরে জেলা রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর।
একই নামের গোলকধাঁধা
জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, কেবল নন্দীগ্রাম নয়, পূর্ব মেদিনীপুরের চার কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থীদের সমনামী নির্দল প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দিয়েছেন:
নন্দীগ্রাম: শুভেন্দু অধিকারীর বিপরীতে লড়ছেন কলকাতার বাসিন্দা শুভেন্দু অধিকারী।
তমলুক: বিজেপি প্রার্থী বর্ষীয়ান হরেকৃষ্ণ বেরার বিপরীতে দাঁড়িয়েছেন ২৯ বছরের এক তরুণ, যাঁর নামও হরেকৃষ্ণ বেরা।
নন্দকুমার: বিজেপি প্রার্থী নির্মল খাড়ার বিরুদ্ধে নির্দল প্রার্থী হিসেবে লড়াইয়ে জনৈক নির্মল। পদবী আলাদা হলেও ইভিএমে নাম-বিভ্রাটের আশঙ্কা থাকছেই।
মহিষাদল: বিজেপি প্রার্থী সুভাষ পাঁজার বিপরীতে রয়েছেন আরও এক সুভাষ (নির্দল)।
ষড়যন্ত্রের অভিযোগ বিজেপির।
বিজেপির জেলা নেতৃত্বের দাবি, এটি শাসকদলের একটি সুপরিকল্পিত চাল। গেরুয়া শিবিরের বক্তব্য, ভোটারদের বিভ্রান্ত করতেই পরিকল্পিতভাবে সমনামী ব্যক্তিদের নির্দল প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করানো হয়েছে। বিজেপির এক নেতার কথায়, "তৃণমূল জানে মানুষের রায়ে জেতা সম্ভব নয়, তাই ডামি প্রার্থী দিয়ে বিজেপির ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসাতে চাইছে ওরা। একই নাম দেখে সাধারণ মানুষ যাতে ভুল বোতাম টেপেন, সেই লক্ষ্যেই এই চিত্রনাট্য।"
পাল্টা যুক্তি শাসকদলের।
যদিও বিজেপির তোলা সমস্ত অভিযোগ হেসেই উড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল শিবির। শাসকদলের স্থানীয় নেতৃত্বের পাল্টা দাবি, এটি কোনো ষড়যন্ত্র নয়। তাঁদের বক্তব্য, "ভারতবর্ষ একটি গণতান্ত্রিক দেশ। এখানে যে কেউ নির্বাচনে লড়ার অধিকার রাখেন। সেখানে অন্য কারোর কী নাম বা পদবী, তা দেখার দায় আমাদের নেই।" রাজনৈতিক মহলের মতে, নাম বিভ্রাটের ফলে গ্রামীণ ভোটব্যাঙ্কে বা বয়স্ক ভোটারদের মধ্যে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হলেও হতে পারে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে: নাম-বিভ্রাটের মাধ্যমে ভোট কাটাকুটির এই কৌশল বাংলার নির্বাচনে নতুন কিছু নয়। এর আগেও অনেক কেন্দ্রে একই নামের প্রার্থীর কারণে মূল প্রার্থীদের বেশ কিছু ভোট নষ্ট হয়েছে। এবার পূর্ব মেদিনীপুরের এই ৪ কেন্দ্রে ‘অপর’ নামধারীরা লড়াইয়ে কতটা প্রভাব ফেলেন, সেটাই এখন দেখার।
কাজল মাইতির রিপোর্ট, দেশ মানুষ