বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। আর নীল ষষ্ঠীর ব্রত পালনে সোমবার সকাল থেকেই দিঘা থেকে তমলুক— সর্বত্রই ছিল সাজ সাজ রব। সেই আবহেই মন্দির চত্বরে জনসংযোগ কর্মসূচিতে নামতে দেখা গেল তমলুক বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী দ্বীপেন্দ্রনার…
বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। আর নীল ষষ্ঠীর ব্রত পালনে সোমবার সকাল থেকেই দিঘা থেকে তমলুক— সর্বত্রই ছিল সাজ সাজ রব। সেই আবহেই মন্দির চত্বরে জনসংযোগ কর্মসূচিতে নামতে দেখা গেল তমলুক বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী দ্বীপেন্দ্রনারায়ণ রায়কে। এদিন সকালে তমলুকের ধারিন্দা শিব মন্দিরে পুজো দেন তিনি। মহাদেবের মাথায় জল ঢালার পাশাপাশি মন্দির চত্বরে উপস্থিত অগণিত ভক্ত ও সাধারণ মানুষের হাতে ফল ও প্রসাদ তুলে দিতে দেখা যায় তাঁকে।
ভোটের বাদ্যি বেজে গিয়েছে অনেকদিন আগেই। চড়া রোদে প্রচারের ঘাম ছুটছে প্রার্থীদের। এই পরিস্থিতিতে নীল ষষ্ঠীর মতো উৎসবকে জনসংযোগের বড় হাতিয়ার হিসেবেই দেখছে শাসক শিবির। দ্বীপেন্দ্রনারায়ণ রায় এদিন বলেন,
"বাঙালির সংস্কৃতিতে নীল ষষ্ঠী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। ভোটের প্রচার যেমন চলছে চলবে, কিন্তু সাধারণ মানুষের এই আবেগের দিনে তাঁদের পাশে থাকাটাই আসল উদ্দেশ্য।"
বিরোধী শিবিরকে কটাক্ষ করে তিনি আরও যোগ করেন, "শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা যাই হোক না কেন, মানুষের বিপদে-আপদে তৃণমূলের কর্মীরাই সবার আগে পৌঁছয়। আজও সেই একই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আমরা মন্দিরে মন্দিরে গিয়ে মানুষের আশীর্বাদ নিচ্ছি এবং তাঁদের সুবিধা-অসুবিধার কথা শুনছি।"
এদিন প্রার্থীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তমলুক সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সহ-সভাপতি চঞ্চল খাঁড়া এবং তমলুক শহর তৃণমূলের সভাপতি চন্দন প্রধান। রাজনৈতিক মহলের মতে, উৎসবের মেজাজকে কাজে লাগিয়ে একদিকে যেমন ধর্মীয় ভাবাবেগকে ছোঁয়া গেল, তেমনই সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের কাজটাও সেরে ফেললেন তৃণমূল প্রার্থী।
তীব্র দহন উপেক্ষা করেই এদিন ধারিন্দা মন্দির চত্বরে মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তৃণমূল শিবিরের এই সক্রিয়তাকে নিছক ‘ভোটের গিমিক’ বলে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিরোধীরা। তবে সব মিলিয়ে নীল ষষ্ঠীর সকালে তমলুকের মন্দির চত্বর সরগরম ছিল, তা বলাই বাহুল্য।
কাজল মাইতির রিপোর্ট, দেশ মানুষ