আন্তর্জাতিক যুদ্ধের রেশ আছড়ে পড়ল তাম্রলিপ্ত গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালের ক্যান্টিনে। যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে ব্যাহত জ্বালানি সরবরাহ, যার সরাসরি কোপ পড়ল তাম্রলিপ্ত গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ক্যান্টিনে…
আন্তর্জাতিক যুদ্ধের রেশ আছড়ে পড়ল তাম্রলিপ্ত গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালের ক্যান্টিনে। যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে ব্যাহত জ্বালানি সরবরাহ, যার সরাসরি কোপ পড়ল তাম্রলিপ্ত গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ক্যান্টিনে। রান্নার গ্যাসের অভাবে গত পনেরো দিন ধরে কার্যত নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড় পড়ুয়া থেকে চিকিৎসকদের। পরিস্থিতি এমনই যে, আধুনিক গ্যাসে ইতি টেনে এখন খোলা আকাশের নীচে কাঠের উনুনেই ভরসা খুঁজছেন রাঁধুনিরা।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, এই ক্যান্টিনের ওপর প্রতিদিন নির্ভর করেন প্রায় ৪০০ জন হবু চিকিৎসক, ২০০ জন নার্সিং পড়ুয়া এবং অন্তত ৫০ জন চিকিৎসক। চার বেলার আহার আসত এই হেঁশেল থেকেই। কিন্তু গত পনেরো দিন ধরে ডিলারদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত সিলিন্ডার না আসায় ব্যাহত হচ্ছে পরিষেবা। বর্তমানে শুধুমাত্র দুপুরের আহারটুকু কোনওরকমে জুটলেও, সকাল-বিকেল বা রাতের খাবারের জন্য চড়া দামে বাইরের হোটেলের দিকেই তাকাতে হচ্ছে পড়ুয়াদের।
এক নজরে বর্তমান চিত্র:
প্রায় ৬৫০ জন পড়ুয়া ও চিকিৎসক।
ক্যান্টিনের বাইরে ত্রিপল খাটিয়ে কাঠের জালে রান্না।
৫০০ জন অন্তর্বিভাগীয় রোগীর খাবার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে।
তবে অভিযোগ উঠেছে বৈষম্যেরও। হাসপাতালের প্রায় ৫০০ জন রোগীর জন্য প্রতিদিন ৩-৪টি সিলিন্ডার বরাদ্দ থাকলেও, হস্টেল বা ক্যান্টিনের জন্য কেন টান পড়ল, তা নিয়ে গুঞ্জন ছড়িয়েছে চত্বরে। যদিও খাবার সরবরাহের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার অতনু সিংহ পরিস্থিতির কথা স্বীকার করে বলেন, "আন্তর্জাতিক অস্থিরতার কারণে গ্যাস সরবরাহে একটা ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ডিলারদের সঙ্গে আমরা ক্রমাগত কথা বলছি। আশা করছি দ্রুত জট কেটে যাবে।"
আপাতত ধোঁয়ায় চোখ রাঙিয়ে কাঠের জ্বালানিতেই চলছে হাসপাতালের অন্নসংস্থান। তবে কতদিন এই ‘অস্থায়ী’ ব্যবস্থায় কাজ চলবে, তা নিয়ে চিন্তার ভাঁজ চিকিৎসক মহলে। যুদ্ধ কবে থামবে জানা নেই, কিন্তু গ্যাসের অভাবে তাঁদের হেঁশেল যে রীতিমতো ‘যুদ্ধকালীন’ পরিস্থিতির মোকাবিলা করছে, তা বলাই বাহুল্য।
কাজল মাইতির রিপোর্ট, দেশ মানুষ