বঙ্গে ভোটের পারদ যত চড়ছে, ততই অভিনবত্ব বাড়ছে প্রচারের ধরনে। কোথাও ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’, কোথাও আবার ‘খেলা হবে’। কিন্তু রবিবার পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দকুমার সাক্ষী থাকল এক ভিন্ন মেজাজের। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপির ‘পোস্টার …
বঙ্গে ভোটের পারদ যত চড়ছে, ততই অভিনবত্ব বাড়ছে প্রচারের ধরনে। কোথাও ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’, কোথাও আবার ‘খেলা হবে’। কিন্তু রবিবার পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দকুমার সাক্ষী থাকল এক ভিন্ন মেজাজের। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপির ‘পোস্টার বয়’ যোগী আদিত্যনাথের সভায় দেখা গেল একের পর এক বুলডোজার। প্রিয় নেতাকে চাক্ষুষ করতে রোদে পুড়ে নয়, বরং খোদ বুলডোজারে চেপেই জনসভায় হাজির হলেন একদল বিজেপি সমর্থক।
এপ্রিলের চড়া রোদ আর আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি উপেক্ষা করেই এদিন নন্দকুমারের খঞ্চি হাই স্কুল মাঠে জনস্রোত আছড়ে পড়েছিল। লক্ষ্য একটাই— ‘বুলডোজার বাবা’। উত্তরপ্রদেশের প্রশাসনিক মডেলে অপরাধীদের দমনে আদিত্যনাথের ‘বুলডোজার নীতি’ এখন দেশজুড়ে চর্চিত। সেই জনপ্রিয়তার আঁচ যে বাংলাতেও এসে পৌঁছেছে, রবিবারের ভিড়ই তার প্রমাণ।
কেন এই বুলডোজার উন্মাদনা?
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই সে রাজ্যে সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে এবং মাফিয়াদের দাপট কমাতে কড়া হাতে বুলডোজার ব্যবহার করেছেন যোগী। গেরুয়া শিবিরের কর্মী-সমর্থকদের দেওয়া ‘বুলডোজার বাবা’ নামটি এখন কার্যত তাঁর সমার্থক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এদিন নন্দকুমারের বিজেপি প্রার্থী নির্মল কুমার খাঁড়া-র সমর্থনে সভায় আসা সমর্থকদের গলায় শোনা গেল সেই একই সুর। তাঁদের কথায়,
"বুলডোজার বাবা এসেছেন, তাই আমরাও বুলডোজার নিয়ে এসেছি। উত্তরপ্রদেশে যে ভাবে মাফিয়া আর দুর্নীতিবাজদের শায়েস্তা করা হয়েছে, আমরা চাই বাংলাতেও এ ভাবেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে বুলডোজার চলুক।"
রবিবাসরীয় প্রচারের চিত্র
এদিন শুধু নন্দকুমার নয়, যোগীর কপ্টার উড়ে গিয়ে পৌঁছায় কাঁথিতেও। দুই জায়গাতেই শাসক দলকে তীব্র আক্রমণে বিঁধেছেন তিনি। ১২ এপ্রিলের এই রবিবাসরীয় প্রচারকে ঘিরে মেদিনীপুর জেলার অলিগলি যেন গেরুয়া ঝড়ে উন্মাতাল হয়ে ওঠে। রাজনৈতিক মহলের মতে, উন্নয়নের স্লোগানের পাশে ‘বুলডোজার’কে হাতিয়ার করে বিজেপি আসলে বাংলায় আইনশৃঙ্খলার ইস্যুটিকে আরও জোরালোভাবে মানুষের সামনে আনতে চাইছে।
দুপুরের তীব্র দহন আর ভোটের উত্তাপ— দুই মিলে রবিবার নন্দকুমার আর কাঁথির জনসভা বঙ্গ রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করল। সভা শেষে ‘বুলডোজার বাবা’ ফিরে গেলেও, নন্দকুমারের মাঠে দাঁড়িয়ে থাকা সেই হলুদ যন্ত্রগুলো নিয়ে চর্চা চলবে আরও কয়েক দিন।
কাজল মাইতির রিপোর্ট, দেশ মানুষ