লোকসভা নির্বাচনের পারদ চড়ছে বঙ্গে। রবিবার দক্ষিণবঙ্গের তপ্ত দুপুরে নন্দকুমারের জনসভা থেকে যখন বিরোধীদের নিশানা করছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, তখনই জনসমুদ্রের মাঝে নজর কাড়ল দুই খুদে মুখ। বক্তৃতা শেষ হতে না হতেই ন…
লোকসভা নির্বাচনের পারদ চড়ছে বঙ্গে। রবিবার দক্ষিণবঙ্গের তপ্ত দুপুরে নন্দকুমারের জনসভা থেকে যখন বিরোধীদের নিশানা করছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, তখনই জনসমুদ্রের মাঝে নজর কাড়ল দুই খুদে মুখ। বক্তৃতা শেষ হতে না হতেই নিরাপত্তারক্ষীদের নির্দেশ দিলেন যোগী। ভিড় ঠেলে মঞ্চে উঠে এল দুই তরুণী। তাঁদের হাতে ধরা আদিত্যনাথের নিজেরই প্রতিকৃতি। প্রিয় নেতার হাতে নিজের আঁকা ছবি তুলে দিতে পেরে আপ্লুত দুই ভক্ত।
রবিবার ছিল দক্ষিণবঙ্গে যোগী আদিত্যনাথের মেগা প্রচার। বাঁকুড়া থেকে হেলিকপ্টারে কাঁথি হয়ে যখন তিনি নন্দকুমার খঞ্চি হাইস্কুল মাঠের সভায় পৌঁছান, তখন সেখানে তিল ধারণের জায়গা নেই। ‘বুলডোজার বাবা’র সমর্থনে গগনভেদী স্লোগান আর হর্ষধ্বনির মাঝেই বক্তৃতা শুরু করেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী। ঠিক সেই সময়েই মঞ্চের সামনের সারিতে দুই তরুণীকে দেখা যায় দু’টি বড় পোর্ট্রেট হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে। প্রখর রোদে দীর্ঘক্ষণ মাথার ওপর সেই ছবি তুলে ধরেছিলেন তাঁরা।
বক্তৃতা চলাকালীনই বিষয়টি নজরে আসে যোগীর। নিজের কথা শেষ করেই এসপিজি কমান্ডোদের মাধ্যমে ওই দু’জনকে মঞ্চে ডেকে পাঠান তিনি। তাঁদের মধ্যে একজন পাঁশকুড়ার বাসিন্দা শুভশ্রী পাল। অন্যজন ১০-১২ বছরের এক বালিকা। শুভশ্রী জানান, যোগী আদিত্যনাথের কাজ তাঁর ভীষণ প্রিয়। প্রিয় মানুষকে উপহার দেবেন বলে সারা রাত জেগে তাঁর প্রতিকৃতি এঁকেছিলেন তিনি। সকালে সেই ছবি নিয়েই পৌঁছে যান খঞ্চির সভা মাঠে।
মঞ্চে উঠে প্রিয় নেতার পা ছুঁয়ে প্রণাম করেন দুই ‘শিল্পী’। হাসিমুখে তাঁদের আঁকা ছবি দু’টি গ্রহণ করেন যোগী। আপ্লুত শুভশ্রীর কথায়, “ওঁর কাজ আমার খুব ভালো লাগে। সেই ভালোবাসা থেকেই সারা রাত জেগে ছবিটা এঁকেছিলাম। আজ ওঁর হাতে সরাসরি সেটা তুলে দিতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে হচ্ছে। আমি সত্যিই অভিভূত।”
এদিন নন্দকুমারের বিজেপি প্রার্থী নির্মল খাঁড়ার সমর্থনে এই জনসভায় ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। কেউ এনেছিলেন হনুমানজির মূর্তি, কেউ বা প্রিয় নেতার বিশাল কাট-আউট। তবে প্রচারের ঝাঁজালো রাজনৈতিক বক্তৃতার মাঝে দুই খুদে ভক্তের শিল্পকলা এবং আদিত্যনাথের এই সৌজন্য— দুইয়ে মিলে নন্দকুমারের সভা এক অন্য মাত্রা পেল।
কাজল মাইতির রিপোর্ট, দেশ মানুষ