অরুণ কুমার সাউ, খেজুরি: বর্তমানের ডিজিটাল যুগে যখন শৈশব-কৈশোর বন্দি হয়ে পড়ছে চার দেওয়ালের মাঝে, মোবাইল স্ক্রিনের ভার্চুয়াল জগতে; ঠিক তখনই নতুন প্রজন্মকে মাঠমুখী করতে এবং প্রকৃতির সান্নিধ্যে ফিরিয়ে আনতে এক অনন্য উদ্যোগ নিল পূর্ব ম…
অরুণ কুমার সাউ, খেজুরি: বর্তমানের ডিজিটাল যুগে যখন শৈশব-কৈশোর বন্দি হয়ে পড়ছে চার দেওয়ালের মাঝে, মোবাইল স্ক্রিনের ভার্চুয়াল জগতে; ঠিক তখনই নতুন প্রজন্মকে মাঠমুখী করতে এবং প্রকৃতির সান্নিধ্যে ফিরিয়ে আনতে এক অনন্য উদ্যোগ নিল পূর্ব মেদিনীপুর জেলার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘উজান ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট’। সংগঠনের পরিচালনায় খেজুরী আদর্শ বিদ্যাপীঠ স্কুল ফুটবল ময়দান সংলগ্ন মাঠে সাড়ম্বরে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল দু’দিন ব্যাপী এক বর্ণাঢ্য ঘুড়ি উৎসব।
আকাশ জুড়ে রঙিন ঘুড়ির মেলা আর কাটাকুটি খেলার উন্মাদনায় মেতে উঠলেন আট থেকে আশি সব বয়সের মানুষ।উৎসবের প্রথম দিনটি আয়োজন করা হয়েছিল ঘুড়ি প্রদর্শনীর জন্য। এলাকার প্রায় ১৮ জন প্রতিযোগী এই প্রদর্শনীতে অংশ নেন। প্রতিযোগীদের তৈরি রকমারি ঘুড়ির আকার ও নকশায় ফুটে ওঠে তাঁদের সৃজনশীলতা ও নান্দনিকতার ছোঁয়া। ঘুড়ি তৈরি ও প্রদর্শনীর এই শৈল্পিক প্রতিযোগিতায় বিচারকদের নজরে সেরা স্থানগুলি ছিনিয়ে নেয় শেখ নাসিবুল(প্রথম স্থান),রাহুল শীট(দ্বিতীয় স্থান),অর্ঘ্য ঢালী(তৃতীয় স্থান)।উৎসবের দ্বিতীয় দিনে ছিল আসল আকর্ষন—ঐতিহ্যবাহী ঘুড়ি কাটাকাটি প্রতিযোগিতা। এই দিনটিকে ঘিরে স্থানীয় এলাকার কচিকাঁচাদের মধ্যে উদ্দীপনা ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রায় ৪৩ জন প্রতিযোগী এই লড়াইতে অংশ নেয়। টানটান উত্তেজনা, সুতোর টান আর হাতের কৌশলে বাতাস মাতোয়ারা হয়ে ওঠে। সারাবিকেল জুড়ে দর্শকদের করতালিতে মুখরিত ছিল খেলার মাঠ।কাটাকাটি প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত বিজয়ীরা হলেন রেহান আলী খান( প্রথম স্থান )শেখ রাজেশ (দ্বিতীয় স্থান), শুভদ্বীপ মাইতি ও শেখ রাকেশ (যুগ্ম তৃতীয় স্থান)।প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী প্রতিযোগীদের হাতে উজান ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের সদস্য-সদস্যাদের পক্ষ থেকে ট্রফি ও বিশেষ সম্মাননা পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
উজান ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের সহ-সম্পাদিকা অমৃতা প্রধান বলেন,আজকের প্রযুক্তিনির্ভর সময়ে মোবাইল ফোন শিশু-কিশোরদের জীবনের একটা বড় অংশ কেড়ে নিয়েছে। আমাদের মূল লক্ষ্যই ছিল তাদের মাঠমুখী করা, খেলাধুলা ও সংস্কৃতির সঙ্গে পুনরায় একাত্ম করা। দর্শকদের এই বিপুল উৎসাহ আমাদের এই আন্তরিক প্রয়াসকে সার্থক করেছে। উপস্থিত দর্শকদের মতে, উজান-এর এই দু’দিনের ঘুড়ি উৎসব শুধুমাত্র বিনোদন বা প্রতিযোগিতার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ ছিল না। এটি ছিল নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে চেনার এবং সমাজে মেলবন্ধন ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার এক আন্তরিক সামাজিক প্রয়াস। মাঠ জুড়ে একটাই প্রার্থনা ধ্বনিত হচ্ছিল—স্মার্টফোনের স্ক্রিন ছেড়ে আকাশে শুধু ঘুড়ি নয়, ডানা মেলুক নতুন প্রজন্মের স্বপ্ন ও সুস্থ শৈশব।


