অরুণ কুমার সাউ, তমলুক: পাল্লা দিয়ে ক্রমশ বাড়ছে পারদ। তীব্র গরমে যখন রাজ্যবাসীর নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়, ঠিক তখনই সাধারণ মানুষের জীবনে খানিকটা স্বস্তির পরশ নিয়ে হাজির হয়েছে মরসুমি ফল তালের শাঁস। তীব্র গরমে শরীর সতেজ ও সুস্থ রাখতে এখন…
অরুণ কুমার সাউ, তমলুক: পাল্লা দিয়ে ক্রমশ বাড়ছে পারদ। তীব্র গরমে যখন রাজ্যবাসীর নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়, ঠিক তখনই সাধারণ মানুষের জীবনে খানিকটা স্বস্তির পরশ নিয়ে হাজির হয়েছে মরসুমি ফল তালের শাঁস। তীব্র গরমে শরীর সতেজ ও সুস্থ রাখতে এখন আট থেকে আশি—সবারই প্রথম পছন্দ এই রসালো ফল। ফলে, জেলার মোড়ে মোড়ে এখন তালের পসরা নিয়ে বসছেন বিক্রেতারা।বিশেষ করে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুক শহরের বিভিন্ন প্রান্তে এখন তালের শাঁস কেনার ধুম লেগেছে। শহরের বড়বাজার, হাসপাতাল মোড়, হরির বাজার ছাড়াও বিভিন্ন রাস্তাঘাটে দেখা যাচ্ছে বিক্রেতাদের ব্যস্ততা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রোদের খরতাপে হাঁসফাঁস করা তৃষ্ণার্ত পথচারীদের কাছে এই স্বচ্ছ কচি তালের শাঁস যেন এক অনন্য শান্তির উপকরণ।স্থানীয় বাজারে আকার ও গুণমান ভেদে বিভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে তালের শাঁস। কোথাও চার টাকা পিস, কোথাও আবার দশ টাকায় দুটো। শুক্রবার তমলুকের হাসপাতাল মোড়ে গিয়ে দেখা গেল, সেখানে পাঁচ টাকা পিস হিসেবে বিক্রি হচ্ছে শাঁস। আবার পরিমাণে বেশি নিলে ক্রেতাদের সুবিধার্থে চার টাকা করেও দাম রাখছেন বিক্রেতারা। তবে দাম যাই হোক না কেন, গরমে হাঁপিয়ে ওঠা ক্রেতাদের আগ্রহে কোনো খামতি নেই। তমলুকের স্থানীয় শিক্ষিকা শিবানী দিন্দা বলেন, - তালের শাঁস শরীর ঠান্ডা রাখতে ভীষণ কার্যকরী। গরমের হাত থেকে বাঁচতে প্রতিবছরের মতো এ বছরও গত সপ্তাহ থেকে বেশ কয়েকবার তালশাঁস কিনলাম।
এই মরসুমি ফলটি কেবল তৃষ্ণা মেটাচ্ছে না, বরং গ্রামীণ মানুষের কাছে এক বিকল্প আয়ের পথও তৈরি করে দিয়েছে। তমলুকের সাউতানচক থেকে আসা স্থানীয় এক বিক্রেতা কমল ঘোড়াই জানান, প্রতি বছর গরম পড়লেই তিনি তমলুক শহরে তালশাঁস বিক্রি করতে আসেন। গত মঙ্গলবার থেকে তিনি শহরে আসছেন। তিনি বলেন,- এবার প্রচণ্ড গরম পড়েছে, তাই চাহিদাও খুব বেশি। তমলুক শহর থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে ধলহরা গ্রাম থেকে তাল সংগ্রহ করে আজ বাজারে বসেছি। দিনে ৩০০ থেকে ৪০০টি শাঁস অনায়াসেই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। চাহিদা তুঙ্গে থাকলেও ভবিষ্যৎ জোগান নিয়ে কিছুটা চিন্তিত ব্যবসায়ীরা। বিক্রেতা কমল ঘোড়াইয়ের কথায়, বর্তমানে তাল শাঁসের চাহিদা এতটাই যে ক্রেতাদের সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কিন্তু সেই তুলনায় তাল গাছের সংখ্যা ক্রমশ কমে যাচ্ছে। গ্রামাঞ্চলের মানুষ এখন আর নতুন করে খুব বেশি তাল গাছ লাগাতে চাইছেন না। ফলে দূরদূরান্ত থেকে তাল সংগ্রহ করে এনে, তা কেটে বিক্রি করতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। একা হাতে সব কাজ করা সম্ভব হয় না বলে অনেক সময় বাড়তি লোকও রাখতে হচ্ছে তাঁদের।তবুও, সব বাধা পেরিয়ে গরমের এই মরসুমে তালের শাঁসই এখন মধ্যবিত্তের পকেটের সাধ্যে সবচেয়ে সস্তা ও পুষ্টিকর খাদ্য’।
