রাজ্যে পালাবদলের পরে ফের রেশন ব্যবস্থায় গম ফিরতে চলেছে। দীর্ঘদিন পরে এই ঘোষণায় নতুন করে আশার আলো দেখছেন পূর্ব মেদিনীপুরের আটা চাকি মালিকেরা। তাঁদের দাবি, রেশনে গমের বদলে প্যাকেট আটা দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর থেকেই কার্যত ধুঁকছিল এই …
রাজ্যে পালাবদলের পরে ফের রেশন ব্যবস্থায় গম ফিরতে চলেছে। দীর্ঘদিন পরে এই ঘোষণায় নতুন করে আশার আলো দেখছেন পূর্ব মেদিনীপুরের আটা চাকি মালিকেরা। তাঁদের দাবি, রেশনে গমের বদলে প্যাকেট আটা দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর থেকেই কার্যত ধুঁকছিল এই ব্যবসা। একের পর এক আটা চাকি বন্ধ হয়ে যায়। এখন আবার গম দেওয়ার সিদ্ধান্তে বহু বন্ধ মেশিনে ধুলো ঝেড়ে নতুন করে কাজ শুরুর প্রস্তুতি চলছে। তৃণমূল সরকারের আমলে রেশন ব্যবস্থায় গমের পরিবর্তে আটা দেওয়া শুরু হয়েছিল। তার জেরে বড় ধাক্কা খায় আটা পেষাইয়ের ব্যবসা। একসময় গ্রাম ও শহরের মানুষ লাইন দিয়ে গম ভাঙাতে আটা চাকিতে আসতেন। পরে সেই ভিড় প্রায় উধাও হয়ে যায়। চাকি মালিকদের অভিযোগ, রেশনে সরাসরি আটা মেলায় সাধারণ মানুষ আর গম পেষাই করতে আসতেন না। ফলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখাই কঠিন হয়ে পড়ে।
রেশন উপভোক্তাদের একাংশেরও দাবি, প্যাকেট আটা নিয়ে বহু সময় সমস্যায় পড়তে হতো। এক উপভোক্তার কথায়, “রেশনে যে আটা দেওয়া হতো, তা অনেক সময় খাওয়ার উপযোগী থাকত না। তাই অনেকে খোলা বাজারে বিক্রি করে অন্য কোম্পানির আটা কিনতেন। এখন গম পেলে নিজেরা পরিষ্কার করে প্রয়োজন মতো আটা করিয়ে খেতে পারব।”
তমলুকের ধারিন্দা এলাকার আটা চাকি মালিক কার্তিক ভক্তা বলেন, “দুই দশকের বেশি সময় ধরে আমাদের দোকান চলছে। আগে মানুষ লাইন দিয়ে গম ভাঙাতে আসতেন। কিন্তু গমের বদলে আটা দেওয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই ব্যবসা একেবারে পড়ে যায়। বহু দোকান বন্ধ হয়ে যায়। কোনও রকমে টিকে ছিলাম। এখন আবার গম দেওয়ার কথা শুনে নতুন আশায় আছি।”
একই সুর শোনা গেল তমলুকের পার্বতীপুর এলাকার আটা চাকি মালিক তৃণাঞ্জন দত্তের গলায়।
তমলুক শহরে একসময় প্রায় দশটি গম পেষাইয়ের মেশিন ছিল। কিন্তু রেশনে আটা চালু হওয়ার পরে অন্তত চারটি দোকান বন্ধ হয়ে যায় বলে স্থানীয়দের দাবি। চাকি মালিকদের অভিযোগ, বিদ্যুতের বিল তোলার মতো রোজগারও হচ্ছিল না। ফলে বহু ব্যবসায়ী বাধ্য হয়ে এই পেশা ছেড়ে দেন।
ওয়েস্ট বেঙ্গল এমআর ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের তমলুক ব্লক ও শহর সম্পাদক সদানন্দ পট্টনায়ক এবং তমলুক মহাকুমার সহ-সম্পাদক অমল কুমার খাঁড়ার বক্তব্য, সংগঠনের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরেই রেশনে গম দেওয়ার দাবি জানানো হচ্ছিল। তাঁদের মতে, “উপভোক্তারা নিজেদের মতো করে গম ভাঙিয়ে খেতে পারবেন। এতে সাধারণ মানুষের সুবিধার পাশাপাশি বন্ধ হয়ে যাওয়া বহু আটা চাকিও ফের চালু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।”
কাজল মাইতির রিপোর্ট, দেশ মানুষ
