অরুণ কুমার সাউ, তমলুক: বাঙালি ফুটবল পাগল, আর ফুটবল ছাড়া বাঙালিকে কল্পনা করা অসম্ভব। চার বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে রাতে শুরু হতে চলেছে বিশ্ব ফুটবলের আসর। ২০২৬-এর ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে সারা বাংলার পাশাপাশি পূর্ব মেদ…
অরুণ কুমার সাউ, তমলুক: বাঙালি ফুটবল পাগল, আর ফুটবল ছাড়া বাঙালিকে কল্পনা করা অসম্ভব। চার বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে রাতে শুরু হতে চলেছে বিশ্ব ফুটবলের আসর। ২০২৬-এর ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে সারা বাংলার পাশাপাশি পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ঐতিহাসিক তমলুক শহরও এখন উন্মাদনায় ফুটছে। এবারই প্রথম রেকর্ডসংখ্যক ৪৮টি দেশ এই বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করছে, যা ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন উৎসবের আমেজ। দোকানে দোকানে প্রিয় দলের ফ্ল্যাগ কেনার ধুম লেগেছে।
রাস্তার দুই পাশে ইতিমধ্যেই শোভা পাচ্ছে প্রিয় তারকাদের বিশাল সব কাট-আউট। বাড়ির দেওয়ালে দেওয়ালে শোভা পাচ্ছে প্রিয় দলের পতাকা ও বিশ্বকাপের অফিশিয়াল ম্যাসকটের ছবি। কেউ ব্রাজিলের কড়া সমর্থক, তো কেউ আর্জেন্টিনার অন্ধ ভক্ত— দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরের এই লড়াই তমলুকের রাজপথ থেকে পাড়ার চায়ের দোকান, সর্বত্রই জমজমাট। তাম্রলিপ্ত পৌরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের অমর সংঘ ক্লাবের পক্ষ থেকে সালগেছিয়া হাই স্কুলের কাছে ব্রাজিলের খেলোয়াড়দের কাট-আউট লাগানো হয়েছে। অন্যদিকে, খেলাঘর ক্লাবের সদস্যরা রং-তুলি নিয়ে নেমে পড়েছেন দেওয়ালে দেওয়ালে প্রিয় দলের পতাকা ও ফুটবল আঁকার কাজে।খেলাঘর ক্লাবের সদস্য গণেশ গুপ্ত বলেন, "তমলুক শহরে ফুটবল খেলা মানেই একটা আলাদা আবেগ। আমাদের ক্লাব প্রতি বিশ্বকাপেই এই ধরনের উদ্যোগ নেয়। আমি নিজে ব্রাজিলের সমর্থক। এবারও প্রতিটা ম্যাচ দেখব আর প্রিয় দলের জন্য গলা ফাটাবো।"অন্যদিকে, দেওয়ালে ফুটিয়ে তোলা ফুটবল-আর্টের কারিগর, শিল্পী ইন্দ্রজিৎ রায় চৌধুরী জানান, ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনায় সারা বিশ্ব এখন মাতোয়ারা। এই পরিস্থিতিতে শহরের বুকে এ ধরনের দেওয়াল চিত্র ফুটবলপ্রেমীদের মনে এক আলাদা মাত্রা ও বাড়তি উদ্দীপনা যোগ করছে।এবারের বিশ্বকাপের ম্যাচগুলি মূলত রাতে সম্প্রচারিত হবে।
তবে সময় নিয়ে একেবারেই চিন্তিত নন তমলুকের ফুটবল ভক্তরা। এক পঞ্চাশোর্ধ্ব প্রবীণ ফুটবল প্রেমীর কথায়, "সব খেলা রাতে হবে তাতে কী? খেলা যখন ফুটবল, তখন রাত তো জাগতেই হবে! ফুটবল বাঙালির রক্তে।"সব মিলিয়ে, আবালবৃদ্ধবনিতা— সমস্ত বয়সের মানুষের অংশগ্রহণে তমলুক শহর এখন মিনি কাতার বা ব্রাজিলে পরিণত হয়েছে। এখন শুধু মাঠে বল গড়ানোর অপেক্ষা।


