রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই শাসকদলের নেতা-কর্মীদের একাংশের বাড়ি বা কার্যালয় থেকে সরকারি সামগ্রী উদ্ধারের অভিযোগ উঠছিল ভূরি ভূরি। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দকুমার। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক সুকুমার দে-র …
রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই শাসকদলের নেতা-কর্মীদের একাংশের বাড়ি বা কার্যালয় থেকে সরকারি সামগ্রী উদ্ধারের অভিযোগ উঠছিল ভূরি ভূরি। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দকুমার। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক সুকুমার দে-র একটি ভাড়া নেওয়া গুদামঘর থেকে বস্তা বস্তা সরকারি ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনায় বুধবার তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ালো নন্দকুমারের ব্যবত্তাহাট এলাকায়। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে ত্রিপল ও পোশাকের পাশাপাশি একাধিক নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ব্যবত্তাহাট বাজারে একটি গুদামঘর ভাড়া নিয়েছিলেন নন্দকুমারের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুকুমার দে। দীর্ঘদিন ধরেই সেটি বন্ধ অবস্থায় ছিল। সম্প্রতি স্থানীয় বাসিন্দারা গোপন সূত্রে জানতে পারেন, ওই বন্ধ গুদামের ভেতরে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণ সামগ্রী মজুত করে রাখা হয়েছে। এই খবর চাউর হতেই বুধবার সকালে ওই গুদামের সামনে ভিড় জমাতে শুরু করেন এলাকার মানুষ।
উত্তেজিত জনতার চাপে শেষমেশ গুদামের দরজা খোলা হলে চোখ কপালে ওঠে সকলের। দেখা যায়, ঘরের ভেতরে থরে থরে সাজানো রয়েছে বস্তা বস্তা সরকারি ত্রাণ সামগ্রী। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় বহু জিনিস নষ্ট হতে বসেছে বলেও অভিযোগ। খবর দেওয়া হয় নন্দকুমার থানায়। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং গুদাম থেকে প্রায় দু’লরি ভর্তি ত্রাণ সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করে থানায় নিয়ে যায়।
গুদাম থেকে সরকারি ত্রাণ উদ্ধারের ঘটনা নিয়ে শোরগোল পড়ে গেলেও সমস্ত দায় ঝেড়ে ফেলেছেন প্রাক্তন বিধায়ক সুকুমার দে। তাঁর দাবি, এই বিষয়ে তিনি বিন্দুমাত্র কিছু জানতেন না। কে বা কারা তাঁর ভাড়া নেওয়া গুদামে এই জিনিসপত্র রেখেছে, তা তাঁর জানা নেই।
যদিও এই ঘটনায় তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে সরব হয়েছে বর্তমান শাসক দল। সরকারি ত্রাণ কেন দুর্গতদের হাতে না পৌঁছে এভাবে গুদামে আটকে রাখা হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যবত্তাহাট বাজার এলাকায় এখনও থমথমে পরিস্থিতি বজায় রয়েছে। ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনও চক্র কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে নন্দকুমার থানার পুলিশ।
কাজল মাইতির রিপোর্ট, দেশ মানুষ
