Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking News:

latest

আইসিডিএস-এর খাবারের গুণগত মান যাচাইয়ে খোদ জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার, কেন্দ্রে গিয়ে খেলেন খিচুড়ি

বিভিন্ন সময়ে রাজ্যের নানা প্রান্তের অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র (ICDS)- থেকে দেওয়া খাবারের গুণগত মান নিয়ে ভুরি ভুরি অভিযোগ ওঠে। কোথাও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রান্না, আবার কোথাও খিচুড়ির মধ্যে ব্যাঙ, টিকটিকি বা সাপ মেলার মতো মারাত্মক ও উদ্বে…

 


বিভিন্ন সময়ে রাজ্যের নানা প্রান্তের অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র (ICDS)- থেকে দেওয়া খাবারের গুণগত মান নিয়ে ভুরি ভুরি অভিযোগ ওঠে। কোথাও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রান্না, আবার কোথাও খিচুড়ির মধ্যে ব্যাঙ, টিকটিকি বা সাপ মেলার মতো মারাত্মক ও উদ্বেগজনক ঘটনা সংবাদ শিরোনামে আসে। শিশু ও গর্ভবতী মহিলাদের স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় এই ধরনের গাফিলতি রুখতে এবার কোমর বেঁধে ময়দানে নামল পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের রান্নার মান নিশ্চিত করতে এক নজিরবিহীন ও তৎপর ভূমিকা নিলেন স্বয়ং জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার।

​মঙ্গলবার, ২ জুন তমলুকের বিষ্ণুবাড় হরিসাধন অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে আচমকা পরিদর্শনে যান জেলাশাসক। সেখানে শিশু ও গর্ভবতী মহিলাদের জন্য তৈরি হওয়া গরম খিচুড়ি নিজে খেয়ে দেখেন তিনি। খাবারের স্বাদ কেমন, চাল-ডাল ঠিকমতো সেদ্ধ হয়েছে কিনা, পুষ্টিগুণ বজায় আছে কিনা এবং রান্নায় ব্যবহৃত তেল-মশলার পরিমাণ সঠিক রয়েছে কিনা—তা সরজমিনে খতিয়ে দেখাই ছিল তাঁর এই পরিদর্শনের মূল উদ্দেশ্য।

​কেবল খাবারের স্বাদ গ্রহণ করাই নয়, জেলাশাসক ওই কেন্দ্রের সামগ্রিক পরিবেশও খতিয়ে দেখেন। যেখানে রান্না হচ্ছে সেই রান্নাঘরটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কিনা, রান্নার কাজে বিশুদ্ধ জল ব্যবহার করা হচ্ছে কিনা এবং বাসনপত্র ঠিকমতো ধুয়ে নেওয়া হচ্ছে কিনা, তা তিনি খুঁটিয়ে লক্ষ্য করেন। এর পাশাপাশি কেন্দ্রে উপস্থিত একঝাঁক খুদে পড়ুয়াদের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটান জেলাশাসক। তারা কীভাবে পড়াশোনা করছে, প্রতিদিন কেন্দ্রে আসে কিনা—সহজ সুরে সেইসব খোঁজখবরও নেন তিনি।

​পরিদর্শন শেষে জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার স্পষ্ট জানান, "শিশু এবং গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্যের বিষয়টি আমাদের কাছে সবচেয়ে অগ্রাধিকার পায়। অঙ্গনওয়াড়ির খাবারের গুণমান নিয়ে কোনও রকম খামতি বা গাফিলতি কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। আজ আমি নিজে রান্না করা খাবার খেয়ে দেখলাম। তবে শুধু খাবারের স্বাদ নয়, কোন পরিবেশে খাবার তৈরি হচ্ছে এবং কতটা পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা হচ্ছে, তার ওপর আমরা কড়া নজর রাখছি।"

​একই সঙ্গে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, শিশুদের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে কোনও রকম আপস করা চলবে না। রান্নার পরিচ্ছন্নতা ও গুণগত মান বজায় রাখতে আগামীদিনেও প্রশাসনের এই আচমকা নজরদারি জারি থাকবে। প্রশাসনের শীর্ষ কর্তার এমন সংবেদনশীল ও দায়িত্বশীল ভূমিকাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ ও অভিভাবকেরা।

কাজল মাইতির রিপোর্ট, দেশ মানুষ