কাজল মাইতির রিপোর্ট, দেশ মানুষএকান্ন সতী পিঠের গৌরব এবার ডাক খামে, উচ্ছ্বসিত তমলুকবাসী। বর্গভীমার ইতিহাস এবার পৌঁছবে ঘরে ঘরে ।হাজার বছরের ইতিহাস, ধর্মীয় বিশ্বাস আর লোককথার মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা তমলুকের বর্গভীমা মন্দির এবার স্থান প…
কাজল মাইতির রিপোর্ট, দেশ মানুষ
একান্ন সতী পিঠের গৌরব এবার ডাক খামে, উচ্ছ্বসিত তমলুকবাসী। বর্গভীমার ইতিহাস এবার পৌঁছবে ঘরে ঘরে ।
হাজার বছরের ইতিহাস, ধর্মীয় বিশ্বাস আর লোককথার মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা তমলুকের বর্গভীমা মন্দির এবার স্থান পেল ভারতীয় ডাক বিভাগের বিশেষ উদ্যোগে। তমলুকের অধিষ্ঠাত্রী দেবী বর্গভীমার মাহাত্ম্যকে দেশ-বিদেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে প্রকাশ করা হল একটি বিশেষ ডাক খাম বা ‘স্পেশাল পোস্টাল কভার’। ডাক বিভাগের এই উদ্যোগকে ঘিরে শনিবার সকাল থেকেই উৎসবের আবহ ছিল বর্গভীমা মন্দির চত্বরে। মায়ের চরণে বিশেষ পুজো অর্চনার পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয় ওই পোস্টাল কভার।
ওড়িশি স্থাপত্যরীতিতে নির্মিত প্রায় ৬০ ফুট উচ্চতার মন্দিরটি দূর থেকেই নজর কাড়ে। মন্দিরের বহির্ভাগ জুড়ে রয়েছে সূক্ষ্ম টেরাকোটার কারুকাজ, যা বাংলার প্রাচীন শিল্পঐতিহ্যের এক অনন্য নিদর্শন। গর্ভগৃহে কালো পাথরে নির্মিত দেবী বর্গভীমার বিগ্রহ পূজিত হন উগ্রতারা রূপে। প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত ভক্তদের ভিড় লেগেই থাকে এখানে। শুধু পূর্ব মেদিনীপুর নয়, রাজ্যের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও প্রতিবেশী রাজ্য ও দেশের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ আসেন দেবীর দর্শনে।
সেই মন্দিরের ইতিহাস ও মাহাত্ম্য এবার স্থান পেল একটি ডাক খামে। ডাক বিভাগের প্রকাশিত বিশেষ পোস্টাল কভারের সামনের অংশে রয়েছে দেবী বর্গভীমার মনোরম ছবি। পাশাপাশি খামের পিছনের অংশে সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরা হয়েছে মন্দিরের ইতিহাস, ধর্মীয় গুরুত্ব এবং তমলুকের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কথা। ফলে এই খাম শুধুমাত্র ডাক আদান-প্রদানের মাধ্যম নয়, বরং তমলুকের ইতিহাস ও সংস্কৃতির এক চলমান দূত হিসেবেও কাজ করবে বলে মনে করছেন অনেকে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত তমলুক ডিভিশনের ডাক বিভাগের অধীক্ষক অসিত কুমার মহান্তি বলেন, “এটি আমাদের কাছে অত্যন্ত গর্বের একটি মুহূর্ত। তমলুকের মতো ঐতিহাসিক শহরের অন্যতম পরিচয় বর্গভীমা মন্দির। এই বিশেষ পোস্টাল কভারের মাধ্যমে আমরা মন্দিরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরতে পেরেছি। খামটি বিভিন্ন ডাকঘরের পাশাপাশি মন্দির কর্তৃপক্ষের কাছেও পাওয়া যাবে। যাঁরা এটি সংগ্রহ করবেন, তাঁরা যেমন মায়ের ছবি দেখতে পাবেন, তেমনই মন্দির সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও জানতে পারবেন।”
ডাক বিভাগের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন মন্দির কর্তৃপক্ষও। মন্দিরের সেবাইত শিবাজী অধিকারী বলেন, “বর্গভীমা মন্দির শুধুমাত্র তমলুকের নয়, সমগ্র বাংলার একটি ঐতিহ্য। ডাক বিভাগের তমলুক শাখার পক্ষ থেকে এই বিশেষ কভার প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এর ফলে মায়ের পরিচিতি শুধু দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও পৌঁছে যাবে। এই উদ্যোগের জন্য আমরা মন্দির কমিটি, ভক্তবৃন্দ এবং তমলুকবাসীর পক্ষ থেকে ডাক বিভাগকে ধন্যবাদ জানাই।”
শনিবারের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তমলুকের মহকুমাশাসক সৌভিক মুখার্জি, প্রাক্তন বিধায়ক ব্রহ্মময়ানন্দ, বিশিষ্ট সমাজকর্মী, মন্দিরের সেবাইতবৃন্দ এবং কয়েকশো ভক্ত। অনুষ্ঠানের শেষে বহু মানুষ ওই বিশেষ পোস্টাল কভার সংগ্রহ করেন। অনেকেরই বক্তব্য, একটি ছোট্ট ডাক খাম তমলুকের হাজার বছরের ঐতিহ্যকে নতুন করে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরার পথ খুলে দিল।

