অরুণ কুমার সাউ, তমলুক: ১৯৪২ সালের ঐতিহাসিক ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনে অবিভক্ত মেদিনীপুরের মাটিতে আত্মবলিদান দিয়েছিলেন বীরাঙ্গনা মাতঙ্গিনী হাজরা। ২৯ সেপ্টেম্বর সেই গৌরবোজ্জ্বল দিনটিকে স্মরণ করে ‘শহীদ মাতঙ্গিনী হাজরা আত্মবলিদান উদযাপন কম…
অরুণ কুমার সাউ, তমলুক: ১৯৪২ সালের ঐতিহাসিক ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনে অবিভক্ত মেদিনীপুরের মাটিতে আত্মবলিদান দিয়েছিলেন বীরাঙ্গনা মাতঙ্গিনী হাজরা। ২৯ সেপ্টেম্বর সেই গৌরবোজ্জ্বল দিনটিকে স্মরণ করে ‘শহীদ মাতঙ্গিনী হাজরা আত্মবলিদান উদযাপন কমিটি’র উদ্যোগে আয়োজিত হলো এক সুবিশাল বাইক ও টোটো র্যালি।
কাকটিয়া বাজার থেকে শুরু হওয়া এই বর্ণাঢ্য মিছিলে অংশগ্রহণ করেন হাজার হাজার মানুষ। মোটর বাইকের পাশাপাশি প্রায় শতাধিক টোটো মিছিলের সৌন্দর্য ও ব্যাপ্তি বাড়িয়ে তোলে। সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে ভিড় এতটাই প্রবল আকার ধারণ করে যে তমলুকের বেনেপুকুর পাড় পর্যন্ত পৌঁছানোর আগেই মানিকতলা সংলগ্ন এলাকায় পথ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। ভিড় সামলাতে পুলিশ প্রশাসনকেও চরম বেগ পেতে হয়।র্যালিটি কাকটিয়া থেকে শুরু হয়ে তমলুকের হাসপাতাল মোড় ও বেনেপুকুর পাড়—যেখানে ব্রিটিশ পুলিশের গুলিতে মাতঙ্গিনী হাজরা শহীদ হয়েছিলেন—সেই ঐতিহাসিক স্থানে পৌঁছায়। সেখানে তাঁর মূর্তিতে শ্রদ্ধা ও মাল্যদান করা হয়। এরপর মিছিলটি তাঁর জন্মভিটে হগলার কুটিরের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। বিশিষ্ট সমাজসেবী তথা বিজেপি নেতা দিবাকর জানার নেতৃত্বে সমগ্র কর্মসূচিটি পরিচালিত হয়।
ট্রাস্টের সভাপতি দিবাকর জানা জানান, "এই মেদিনীপুরের মাটি অত্যন্ত পবিত্র, যেখানে বীরাঙ্গনা মাতঙ্গিনী হাজরা দেশের স্বাধীনতার জন্য নিজের প্রাণ উৎসর্গ করেছিলেন। বিগত ১৭ বছর ধরে আমাদের কমিটি আড়ম্বরের সঙ্গে এই দিনটি পালন করে আসছে।
জনজোয়ার এতটাই বেশি ছিল যে পুলিশ নিরাপত্তার কারণে টোটো প্রবেশে নিয়ন্ত্রণ আনে, ফলে র্যালির একটি বড় অংশ মানিকতলাতেই আটকে পড়ে। হগলায় তাঁর জন্মভিটের কুটিরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেই আমাদের এই শ্রদ্ধা পরিক্রমা সমাপ্ত হবে।"



